• শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০১:১৮ অপরাহ্ন

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার আরো একটি মামলায় জামিন: বিএমএসএফ

Reporter Name / ১২৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

ঢাকা ১৮ আগষ্ট ২০২০: টেকনাফের বহিস্কৃত ওসি প্রদীপের রোষানলের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার আরেকটি চাঁদাবাজি মামলায় আজ জামিন হয়েছে।

ওসি প্রদীপের নির্দেশে টেকনাফের হোয়াইক্যং হাজী আবুল হাশেমের ছেলে মফিজ আহাম্মদ ইকবালকে বাদী করে দায়ের করা চাঁদাবাজির সাজানো মামলায় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার এ নিয়ে দুটি মামলায় জামিন হলো। ৬টির মধ্যে আগামি রোবাবারেও আরেকটি মামলায় জামিন শুনানীর দিন ধার্য রয়েছে।

বুধবার ১৮ আগষ্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ দীর্ঘ শুনানির পর মোস্তফার জামিন প্রদান করেন। মামলার জিআর নং ৭৯৮/১৯ টেকনাফ। আজ ১২ টায় এই জামিন হয়।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার পক্ষে জামিন শুনানী করেন কক্সবাজার বিএমএসএফ’র সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আইন উপদেষ্টা এড সাইফুদ্দিন খালেদ ও এড রবিন্দ্র দাস রবি, এড. আবদুল মন্নান, বারের সাবেক সভাপতি সিনিয়র এড.আবু কালাম ছিদ্দিকী, এড.আবুল কাশেম, এড. রেজাউল করিম, এড.মঈনুল আমিন, এড.ইমরুল শরিফ প্রমূখ।

উল্লেখ্য, সাহসী সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা টেকনাফ ও কক্সবাজারের মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে পুলিশের সম্পৃক্ততা নিয়ে অগনিত সংবাদ প্রকাশ করেন। এর জের ধরে ফরিদুল মোস্তফাকে নিধন মিশনে নামেন ওসি প্রদীপ দাশ। ফরিদ মোস্তফাকে যেখানে পাবে সেখানেই ক্রসফায়ারের ঘোষণা দেয়া হয়। তাই প্রানভয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান কিন্তু শেষ রক্ষা হলোনা মোস্তফার।

গত ২১ সেপ্টেম্বর মোবাইল ট্টাকিং করে রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকার বাসা থেকে আটক করে টেকনাফে নিয়ে যায়। সেখানে থানা হেফাজতে তিনদিন আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। পানির বদলে প্রস্রাব আর না খাইয়ে চোখে মরিচের গুড়া দিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুচিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত করা হয়েছিল। হাত পায়ের নখ প্লাস দিয়ে টেনে উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। চোখ দুটো অন্ধপ্রায় করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে বের হলে ক্রসফায়ার দেয়া হবে বলেও পরিবারকে ভয় দেখান ওসি প্রদীপ জানিয়েছেন মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা। দুটি শিশুপুত্র নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে মোস্তফার স্ত্রীর। মাথাগোজার ঠাই বসতঘর খানা বিক্রি হয়ে গেছে মামলার পরপরই। ঠিকানাবিহীন হয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত কাটছে এখন।

যার ফলে দীর্ঘ ১১ মাস ধরে কক্সবাজার কারাগারে কাটছে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার জীবন। মানবেতর এ খবর পেয়ে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি টিম গত ১১ আগষ্ট কক্সবাজারে যান। সেখানে ভিকটিম মোস্তফার পরিবার, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক ও মতামত গ্রহন করেন।

শীঘ্রই টিমের পক্ষ থেকে ফরিদুল মোস্তফার ঘটনার পূ্ণ:তদন্ত ও সুবিচার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, ফরিদুল মোস্তফা ওসি প্রদীপের কাছে হেরে যেতে পারেনা। তাইতো দীর্ঘদিন পর হলেও আমরা ঘটনাস্থল কক্সবাজার পরিদর্শন করে প্রকৃত কারণ সংগ্রহ করেছি। সারাদেশের সাংবাদিকরা আজ ফরিদুল মোস্তফার নি:শর্ত মুক্তি ও সুবিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category