• বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

ফের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৮৪

/ ৩৯ বার পঠিত
আপডেট: শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক:-
যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর আবারও গাজায় হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে হামলা শুরু করে দখলদার দেশটি। নতুন করে চালানো এসব হামলায় গাজায় ১৮৪ জন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তাদের বরাতে এ কথা জানিয়েছে আলজাজিরা।

গাজার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে ৫৮৯ জন। কমপক্ষে ২০টি ঘরবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি হামলার জবাবে হামাস ও ইসলামিক জিহাদসহ গাজার স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকা লক্ষ্য করে রকেট ও মর্টার হামলা চালিয়েছে। এতে ইসরায়েলের পাঁচ সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গাজায় গত ২৪ নভেম্বর শুরু হওয়া চার দিনের যুদ্ধবিরতি দুই দফা বাড়িয়ে সাত দিন করা হয়। মেয়াদ বাড়াতে আন্তর্জাতিক চাপ ও হামাসের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাজি হয়নি ইসরায়েল।

ইসরায়েল সেনাবাহিনী গতকাল দাবি করেছে, ‘হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি তারা ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে আবারও হামলা শুরু করেছে। ’

তবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা শুরুর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে হামাস। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা খলিল আল-হায়া আল-জাজিরাকে বলেন, জিম্মি মুক্তি নিয়ে সমঝোতায় তিনটি প্রস্তাব দিয়েছিল হামাস। তবে ইসরায়েল এতে রাজি হয়নি।

হামাসের এই নেতা আরও বলেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও জিম্মি নারী সেনাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি তালিকা দেওয়া হয়। তাতে রাজি হয়নি হামাস। অন্যদিকে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্দী বিনিময়ে ইসরায়েল রাজি হয়নি। এ ছাড়া জীবিত জিম্মিদের মুক্তির পাশাপাশি মৃত জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেয় হামাস। বিপরীতে ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শাতিলের মুক্তির বিনিময়ে কারামুক্ত হওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যাঁদের আবার আটক করা হয়েছে, তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। ইসরায়েল এতে রাজি হয়নি।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা শুরু হলো।

যুদ্ধবিরতি শেষে উত্তর গাজার পাশাপাশি দক্ষিণ গাজায়ও হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহর ছেড়ে বাসিন্দাদের আরও দক্ষিণে রাফাহ এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রচারপত্র ফেলেছে ইসরায়েল বিমানবাহিনী। যদিও রাফাহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গাজা নগরীতে অবস্থানরত এএফপির একজন সাংবাদিক বলেন, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে এখানে বেশ কয়েকটি হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোনের শব্দ পাওয়া গেছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, এ হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এ ছাড়া দুই শতাধিক ব্যক্তিকে ইসরায়েল থেকে ধরে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে হামাস। জবাবে ওই দিন থেকেই গাজাকে অবরুদ্ধ করে নির্বিচার বোমা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। পরে গাজায় স্থল অভিযানও শুরু করে তারা।

গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ এ উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাঁদের ৭০ ভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার ১৭ লাখই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলের টানা ৪৭ দিনের হামলার পর ২৪ নভেম্বর প্রথম দফায় চার দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এ যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দুই দফায় মোট তিন দিন বাড়ানো হয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ।

সর্বসাকল্যে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে হামাস ১০৫ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮০ জন ইসরায়েলি নাগরিক ও অন্যরা বিদেশি। বিনিময়ে ২৪০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতির আওতায় ত্রাণবাহী গাড়িগুলোকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ঢুকতে দিয়েছে।


আরো পড়ুন