• সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

মামুন ল্যাব-প্যাথলজিস্ট হাসপাতালের টেস্ট রিপোর্ট তৈরি করেন সরকারী হাসপাতালে বসে!

/ ৮১ বার পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

খালেকুজ্জামান পান্নু, পাবনা প্রতিনিধিঃ-
তিনি হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট, স্ত্রী রেডিওলজিস্ট এক্সেরে করেন। চাকুরির পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন সাঁথিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। সরকারী হাসপাতালে বসেই তৈরি করেন নিজ প্রতিষ্ঠান “সাঁথিয়ায় ডায়াগনস্টিকের” নামে টেস্ট রিপোর্ট। কখনও কখনও ক্ষেত্র বিশেষে নিজের লোক দিয়ে হাসপাতালেও রিপোর্ট পৌছে দিয়ে যান। এভাবেই দিনের পর দিন অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন সাঁথিয়া হাসপাতালের ল্যাব প্যাথলজিস্ট মাহফুজুর রহমান মামুন।

অভিযোগ রয়েছে, একসময় এক্সরে মেশিন নস্ট, আবার কোন সময় আলট্রা মেশিন নষ্ট দেখিয়ে রোগীকে নিজ প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেও হাসপাতাল ডিউটি ফেলে রেখে চলে যান নিজ প্রতিষ্ঠানে। আবার কোন রোগী যেতে না চাইলে তাকে হাসপাতলে বসিয়ে রেখে নিজ প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট ব্যবস্থা করে দিয়ে দেদারসে আদায় করে নিচ্ছেন অর্থ।
হাসপাতালের একটি সুত্র জানায়, যেহেতু হাসপাতালে আগত রোগীদের সকল প্রকার টেস্ট ও এক্সরে তাদের দুজনের নিয়ন্ত্রণে যায়। সেহেতু তাদরেকে ভূলভাল বুঝিয়ে তাদের আয়ত্বে নিয়ে নেন। সাধারণ রোগীরা তাদের নিকট এক প্রকার জিম্মি।

অভিযোগ রয়েছে, দুপুর ১২টার পর কোন রোগীর নমুনা নেন না। পাঠিয়ে দেন তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে। বিষয়গুলো দীর্ঘ দিনের হাসপাতালের প্রতিটা কর্মকর্তা জানলেও মুখ খোলেন না কেউ হেনেস্থার ভয়ে। তবে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে যা দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে করে আসছে, এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অফিস চলাকালীন সময়ে নিজ নামীয় ক্লিনিকের রিপোর্ট ডেলিভারিতে স্বাক্ষর ও হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় রোগীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেয়া এবং তার নিজস্ব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর অভিযোগগুলো হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের নজরে এলে তাকে সতর্কও করে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাঁথিয়া হাসপাতালের ল্যাব পাথলজিস্ট মাহফুজুর রহমান মামুন যোগদানের পর পরই নিজের স্ত্রীকেও একই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে চাকুরির পাশাপাশি গড়ে তোলেন সাঁথিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে হাসপাতালে আসা রোগীকে বাইপাস করে নিজ প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেন। অনেক সময় মেশিন নস্টের বাহানা দেখিয়ে সুকৌশলে রোগীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে যাচ্ছেন। এ যেন দেখার কেউ নেই।

গ্রাম থেকে সহজ সরল গরীব রোগী হাসপাতালে আসেন সরকারী চিকিৎসা সেবা নিতে। এখানে এসে ডাক্তার কোন টেস্ট দিলেই চলে যেতে হয় তাদের নিকট। এ সময় রোগী ও তার স্বজনদের সাথে চলে মামুনের বিভিন্ন প্রকার দেন দরবার। স্বজনেরা তাদের কৌশুলি কথায় বিশ^াস করে রক্তসহ অন্যান্য নমুনা দিয়ে পাঠিয়ে দেন তার নিজ প্রতিষ্ঠান সাঁথিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অথবা রোগীর প্রকারভেদে হাসপাতালে বসেই নিজ প্রতিষ্ঠানের টেস্ট রিপোর্ট ডেলিভারী দেন।

গত শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কোহিনুর নামে এক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতাল থেকে ডাক্তার ৩টি টেস্ট দেন। যার ২টা টেস্ট হাসপাতলে হবে অন্যটি বাইরে থেকে করে এনে দিবে বলে চুক্তি করে টাকা নিলেন। তিনি বলেন, সে হাসপাতালে বসেই সাঁথিয়া ডায়াগনস্টিকের রিপোর্ট ধরিয়ে দিল। সাথে হাসপাতালের রিপোর্টও। তাদের মত এমন অনেক রোগী আসে তাদেরও ঠিক একইভাবে বিভিন্ন রকম টেস্ট করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের ডাক্তার ও এক কর্মকর্তারা জানান, প্যাথলজিস্ট মামুন সাধারণ রোগী নিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসাকে প্রধান্য দিয়ে নিজ দায়িত্ব অবহেলা করেন। কোন ডাক্তার যদি তার ডায়াগনস্টিকে রোগী না পাঠায় তাহলে ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তার কারণে কোন ভাল ডাক্তার এসে বেশীদিন থাকতে পারে না। কেউ কেউ বদলী হয়ে অন্যত্র চলে গেছে। আবার কোন ডাক্তার তার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত গেলেও তার কথামত না চললে তাকেও সুযোগ বুঝে লান্থিত করাতেও দ্বিধা করেন না।

এ বিষয়ে জানতে জানতে ল্যাব প্যাথলজিস্ট মাহফুজুর রহমান মামুনকে মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তার সেল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সাঁথিয়া স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সুজয় কুমার সাহা জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে আমি মামুনের সাথে কথা বলেছি। তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার পুনারাবৃত্তি ঘটলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো পড়ুন