• শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

কুমিল্লায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোধে সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত

/ ৩৭ বার পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) কুমিল্লা,অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ(ওজিএসবি) কুমিল্লা ও বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি কুমিল্লার আয়োজনে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইং তারুখ) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি কুমিল্লায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএমএ ও স্বাচিপ-কুমিল্লার সভাপতি ডা.আবদুল বাকী আনিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা ডায়বেটিক সমিতির সভাপতি মেহেরুন্নেছা বাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ইজাজুল হক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোরশেদুল আলম।


স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ডাঃ এ কে এম আবদুস সেলিম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি কুমিল্লার সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ জাহাঙ্গীর হোমেন ভূইয়া, ওজিএসবি কুমিল্লার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ গোলাম আনোয়ার খান,কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের প্যথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ জয়দ্বীপ দত্ত গুপ্ত ও ওজিএসবি কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দিলরুবা আক্তার, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, ওজিএসবি কুমিল্লার ট্রেজারার
ডাঃ হাসিনা আক্তার, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএমএ কুমিল্লা সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসিম ও ওজিএসবি সভাপতি ডা. সরতাজ বেগম, মূল বক্তা ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মালেকা পারভীন, অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,ডাঃ তাহসিন বাহার সূচনাসহ শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবী, নারীনেত্রী, এনজিও ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটির সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিলেন ইনসেপ্টা ফার্মা লিঃ।

এ সময় বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার হলো নারীদেহের জরায়ুর নিচের অংশে বা মুখে স্বাভাবিক কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন। বিশ্বব্যাপী নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই ক্যান্সার। জরায়ুমুখ ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি, তবে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ হচ্ছে- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। যা যৌন সংযোগের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সংক্রমণের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জরায়ুমুখের স্বাভাবিক কোষ পরিবর্তিত হতে থাকে এবং একসময় তা ক্যানসারে রূপ নেয়। এ সময় দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে এই ক্যান্সারের মৃত্যুর হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই সব নারীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষার পরামর্শ দেন বক্তারা।


বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে প্রথম সন্তান প্রসব, অধিক সন্তান প্রসব, স্থূলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘদিন যাবৎ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, নিয়মিত নারীদের স্বাস্থ্য চেকআপ না করানো, শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে এ রোগ হতে পারে। কমিউনিটি লেভেলে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।


অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার ও ভ্যাক্সিনেশন সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে জানতে পারলাম। আগাম কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া উচিত সেটাও জানতে পারলাম। এমন আয়োজন নিযমিত হলে আমাদের মত আরো অনেকেই এই ব্যাধী সম্পর্কে জানতে পারবে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সরতাজ বেগম বলেন, নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্যানসারের আক্রমণ হার কমিয়ে আনা সম্ভব। স্ক্রিনিং পরীক্ষা হলো রোগের লক্ষণ এখনও প্রকাশ না পাওয়া আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ নারীর নিয়মিত চেকআপ করানো প্রয়োজন। যাতে ক্যান্সারটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে। এক্ষেত্রে, ভায়া টেস্ট অথবা প্যাপ টেস্ট ব্যথামুক্ত এবং খুবই সাশ্রয়ী পরীক্ষা করা যায়। তার মাধ্যমে খুব সহজে এই রোগ সনাক্ত করা যায়। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ “প্যাপিলোমা ভাইরাস” এর ভ্যাক্সিনেশন বা টিকা প্রদানের মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধ করা যায়।


আরো পড়ুন