• রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

সাদুল্লাপুরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা!

মিজানুর রহমান, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি / ৩০৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

এবার জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসেন আলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির তালিকাভুক্ত মাসুম বিল্লাহ সরকার বাদি হয়ে আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সুপারভাইজার আব্দুল ওয়াহাব সরকার ও স্থানীয় যুবক আপেল মাহমুদকে আসামি করা হয়। সম্প্রতি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সরেজমিনে তদন্ত কাজ শুরু করলে মামলার ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।
এদিকে, বাদির পক্ষে মামলায় প্রধান স্বাক্ষী হয়েছেন সাদুল্লাপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাজমুল হাসান। অথচ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধেও রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাত চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ। বিভাগীয় মামলাসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত নাজমুল হাসান নিজের অপকর্ম ঢাকতেই মামলায় স্বাক্ষী হয়েছেন। নাজমুলের স্বাক্ষীর ঘটনায় অনান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝেও।
এরেইমধ্যে মামলার এজাহার কপি, উভয়ের করা অভিযোগের কপি ও ব্যাংক একাউন্ট খোলার নির্দেশনা পত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। আমলী আদালতে (সাদুল্লাপুর) সিআর/জানুয়ারীতে দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির প্রথম ব্যাচে তালিকাভুক্ত (৫৬৩) হন দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের বাদি মাসুম বিল্লাহ। কিন্তু অসুস্থ থাকায় প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেননি তিনি। এ সুযোগে তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসেন আলী ও সুপারভাইজার আব্দুল ওয়াহাব ইদিলপুরের মাদারহাটের আবদুল আজিজ সরকারের ছেলে আপেল মাহমুদকে (মাসুম বিল্লাহ) নাম ধারণ করে প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করান। এরপর ভোটার আইডি কার্ডের নাম ও ঠিকানা ঠিক রেখে ছবি, স্বাক্ষর ও জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে ব্যাংক হিসাব খুলে গত ২৪ মাসের কর্মভাতা উত্তোলন করেন আপেল মাহমুদ।
এজাহারে আরও বলা হয়, অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি অবগতের পর ভূয়া (জালিয়াতি) করা ব্যক্তিকে সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত প্রদান না করতে গত বছরের ৩ জুন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বরাবরে লিথিত আবেদন করেন মাসুম বিল্লাহ। পরে আপেল মাহমুদ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে সুপারভাইজার আব্দুল ওয়াহাবকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও ভাতা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া গত বছরের ৫ জুলাই ছবি, স্বাক্ষর ও জন্ম তারিখসহ আইডি নম্বর পরিবর্তনের পাশাপাশি সার্টিফিকেট ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করেন মাসুম বিল্লাহ।
বাদি মাসুম বিল্লাহর বড় ভাই নান্নু মিয়া বলেন, ‘আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয়ে গত ২৪ মাস কর্মভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও প্রতিকার না মেলায় আদালতের দারস্থ হয়েছি। উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানীর চেষ্টা করা হয়। মামলার তদন্তে জালিয়াতি ও প্রতারণা ঘটনার সত্যতাসহ কয়েকজনের জড়িতের প্রমাণও পেয়েছে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর থেকে বিষয়টি আপোষ করতে অভিযুক্তরা তাদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন’।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি মামলার প্রধান আসামি সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসেন আলীকে। তবে অপর আসামি আব্দুল ওয়াহাব সরকারের ম্যসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে তিনি সামনাসামনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category