• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
Headline
নবীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারী-পুরুষ সহ আহত ১৫, আশংখাজনভাবে ২জন সিলেট প্রেরন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিমের ভরসা এই টং দোকান করোনায় আক্রান্ত রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশাকে ঢাকায় রেফার্ড রংপুরে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩২৪, বাড়ছে আক্রান্ত কারা কারা মুভমেন্ট পাস ছাড়া বাইরে যেতে পারবেন নোয়াখালীতে সুইসাইড নোট লিখে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা ! পিকআপ ভর্তি আনারসের ভিতর থেকে গাঁজাসহ উদ্ধার ! যন্ত্রাংশের প্যাকেটে রাখা বোমার বিস্ফোরণে শিশু নিহত ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র দেশে করোনায় আরও ৯৪ জনের মৃত্যু

প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলে ১১ বিয়ে করা সরাইলের হামিদা কারাগারে

Reporter Name / ৮৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক:- একের পর এক বিয়ে করে দেনমোহর আদায় বাণিজ্যের নায়িকা ১১ বিয়ে করা সরাইলের সেই আলোচিত হামিদা বেগমকে অবশেষে কারাগারে প্রেরণ করলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত। বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হামিদা হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

জানাগেছে তার বয়স ৩৪ বছর। বিয়ে করা তার পেশা। একটি নয় দুটি নয় বিয়ে করেছেন ১১বার। বিয়ে করে কিছুদিন পর সেই স্বামীকে ছেড়ে দেয়া এবং তার কাছ থেকে দেনমোহরের টাকা সহ নানা কৌশলে আরো বেশি করে টাকা হাতিয়ে নেয়া তার ব্যবসা।

একে একে ১১টি বিয়ে করলেও তিন-চারটি ছাড়া অধিকাংশ স্বামীর সঙ্গেই কোনো প্রকার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়নি হামিদার। তার মূল টার্গেট থাকে প্রবাসী এবং সম্পদশালি ব্যবসায়িরা।

প্রথমে টার্গেট নিশ্চিত করেন তিনি এর পর নিজ দেহের সৌন্দর্যের পর্শা দিয়ে আকৃষ্ট করেন ঐসব পুরুষদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকায় হামিদার পৈতৃক বাড়ি। বাবা মৃত বালু মিয়া, মা মৃত আবেদা খাতুন। হামিদার বাবা ছিলেন একজন চা দোকানি।

পারিবারিকভাবে হামিদার প্রথম বিয়ে হয় সরাইল সদরের বড্ডাপাড়া গ্রামের প্রবাসী আলমগীর মিয়ার সঙ্গে। অনুমান ১০ বছর সংসার করার পর হামিদা কালীকচ্ছ এলাকার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে প্রবাসী আলমগীরকে তালাক দেয় এবং দেনমোহর ও অন্যান্য পাওনা বাবদ প্রায় নয় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় হামিদা।

পরবর্তীতে ইব্রাহিমের সঙ্গে সংসার শুরু করে হামিদা। মাত্র একবছরে কৌশলে হামিদা নিজ পিত্রালয়ে নতুন ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের অজুহাতে ১০ লক্ষ টাকার বেশি ইব্রাহিমের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়।

এরই মধ্যে কালীকচ্ছ এলাকার বাপ্পী নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন হামিদা। এরকিছু দিন পর দুর্ঘটনায় ইব্রাহিম পা ভেঙে অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাকে ছেড়ে হামিদা বেগম বাপ্পীর সঙ্গে নতুনভাবে সংসার শুরু করে।

মাত্র কয়েকমাসে বাপ্পীর কাছ থেকে হামিদা মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর সরাইল সদরের বাসিন্দা রেজেক আলীর সঙ্গে আবারো নতুনভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়েন।

পরবর্তীতে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে হামিদা গ্রামের বাড়ি কালীকচ্ছ থেকে কয়েক বছর আগে বিতাড়িত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বিয়ে বাণিজ্য চালাতে থাকেন।

বিশেষ করে প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে ফাঁদে ফেলে প্রথমে বিয়ে ছাড়াই তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন হামিদা। পরে বিয়ে ছাড়া রাত্রিযাপনের অপরাধে মামলার ভয় দেখিয়ে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা দেনমোহরে এসব ব্যক্তিদের রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন হামিদা।

কিছুদিন পর সুযোগ বুঝে দেনমোহরের পূর্ণ টাকা ও বিবাহ বিচ্ছেদকালীন স্ত্রীর ভরণপোষণ বাবদ আরো লক্ষাধিক টাকা আদায় করে এসব স্বামীদের তালাক দেন হামিদা।

সর্বশেষ ১০ নম্বর স্বামী জহিরুল ইসলামকে নিয়ে সংসার করা অবস্থায় গত ২৩ জুন জহিরুলের বন্ধু আবদুল্লাহকে বিয়ে করেছেন হামিদা। হাতিয়ে নিয়েছে জহিরুলের সবকিছু।

এদিকে বিষয়টি অনুসন্ধানে হামিদার একের পর এক বিয়ের কাবিননামাসহ বেশকিছু নথি প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। হামিদা বিয়ের প্র’তারণার ফাঁদ ফেলতে ভু’য়া ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট, বয়স কম দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন তৈরি ও অ’নৈতিক কাজে বিভিন্ন স্থানে নিজেকে রক্ষা করতে প্রথম স্বামীর নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে জাতীয় সনদপত্র করেছেন হামিদা।

এ বিষয়ে কালীকচ্ছ এলাকার জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী সহ সুশীল সমাজের বেশকয়েকজন জানান, হামিদার ব্যবসা হলো বিয়ে। দেনমোহরের টাকা হাতিয়ে নিতেই হামিদা একের পর এক বিয়ে করেই যাচ্ছেন। তার কারণে অনেক পরিবারে এখন শুধুই অশান্তি। অনেক মানুষ আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

এদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর এই আদালতে হামিদার বিরুদ্ধে একটি প্র’তারণার মামলা দায়ের করেন সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউপির দৌলতপাড়ার বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে হামিদার বিরুদ্ধে গ্রে’ফতারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছিলেন। কালীকচ্ছ এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এই নারীর কারণে এখানকার অনেক মানুষ অতিষ্ঠ। হামিদা প্র’তারণার পর মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা তার পেশা ও নেশা। এই বয়সে এই নারী একে একে ১১টি বিয়ে করেছে।

মো. নাজমুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, হামিদা যতদিন জেলে থাকবে, ততদিন আমাদের এলাকা পাপমুক্ত থাকবে। আমরা আদালতকে অভিনন্দন জানাই। হামিদার পেশা প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে বিয়ের পর তাদের কাছ থেকে দেনমোহর আদায় করা।

মামলার বাদী জহিরুল ইসলাম জানান, হামিদার প্র’তারণার শিকার হয়ে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। সে আমার কাছ থেকে সাত লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে একটি চেক দিয়েছিল। সেই চেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ডিজঅনার হয়।

এই মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্র’তারণার মামলায় বৃহস্পতিবার জামিন নিতে আসলে আদালত হামিদা বেগম নামে ওই নারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে হামিদা কারাগারে আছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category