• রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

ত্রিশালে ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকরা

/ ২২ বার পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ত্রিশালে এবার রোপা আমন ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের সোনালী রোপা আমন ধান দোল খাচ্ছে মাঠ জুড়ে। আমন ধানের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক। ধান পাকতে শুরু করায় কাটা ও মারাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক ও শ্রমিক।

বন্যা-খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিকুলতা কাটিয়ে সোনালী ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পারকরছেন কৃষকসহ শ্রমিকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, গত বছরের চেয়ে এবার ফলনে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলায় আবাদযোগ্য ২৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমির মধ্যে চলতি বছর ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা  হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৯৫০ হেক্টর, উপসী জাতের ১৭ হাজার ৪৭০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৮১০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা পার হেক্টরে নির্ধারন করা হয়েছে হাইব্রিড জাতের ৩.৬ মেট্রিকটন, উপসী জাতের ২.৮৫ মেট্রিকটন, স্থানীয় জাতের ১.৬০ মেট্রিকটন। এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আশা করছে কৃষি বিভাগ। গত বছর এ উজেলায় ১৯ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের ফসল থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৫৫ হাজার ৪৫৫ দশমিক ৮৮ মেট্রিকটন চাল। এরই মধ্যে উপজেলায় কৃষক জমি থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে।

এবার ভাল ফলন হওয়ায় দারুণ খুশি ত্রিশাল অঞ্চলের কৃষকরা। তাদের ভাষ্যমতে এবার জমিতে আমন ধানের ভাল ফলন হয়েছে।  যদিও মৌসুমে পানির সমস্যা, খরা ও সারের দাম বেশী হওয়ায় ভুগতে হয়েছে কৃষকদের।
এবার আমনে ভাল ফলন হয়েছে। আশানুরুপ ধানের দাম পেলে আরও বেশী খুশি হবেন কৃষক।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রোদের আলোয় ঝলমল করছে মাঠ জুরে কৃষকের সোনালী আমন ধান। বেশীর ভাগ ধান পাকতে শুরু করেছে। আবার কিছু ধান কাচাও রয়েছে। আবার মাঠে ধান কাটাও শুরু করে দিয়েছে কৃষক। মাঠে মাঠে আমন ধান কাটার যেন আনন্দ উৎসব শুরু হয়ে গেছে কৃষকদের মাঝে। আগামী দুই/তিন সপ্তাহ ধরে টানা এভাবে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করবেন কৃষক পরিবার।

উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, এবার জমিতে আমন ধানের ফসল অনেক ভাল হয়েছে। তবে জমি তৈরীতে অনেক পরিশ্রম করেছি, সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির সংকট ছিল। সারের দামও এবার একটু বেশী ছিল। তার পরও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ফলন ভালো হওয়ায় খুব আনন্দ লাগছে। ধান কেটে মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবো। ধানের দামটা ভাল পেলে আরও খুশি হবো।

উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, ক্ষেত লাগানোর সময় পানির সমস্যায় পড়েছিলা। আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভাল হওয়ায় এবার সবারই আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান পাকতে শুরু করেছে। আমরা অনেকেই কাটতেম শুরু করেছি। সব জিনিসের দাম বেশী হওয়ায় শ্রমিকের মুজুরিও বেশী তাই। নিজে ও ছেলেদের নিয়ে ধান কাটতে শুরু করেছি। না পারলে শ্রমিক নিবো। এবার এমন ফসলে সত্যিই আমরা খুশি।

ধান পাকতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ জমির ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেক কৃষক ধান কাটতেও শুরু করে দিয়েছে। সামনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর কৃষকরা তাদের ঘরে বাম্পার ফলন তুলবেন। চলতি বছর ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। আমনে রোগবালাই অনেকাংশে কম থাকায় আমনের বাম্পার ফলনে আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আরো পড়ুন