• সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন




ঘোষণার অপেক্ষায় দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র

/ ১৪ বার পঠিত
আপডেট: সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
চা নিলাম কেন্দ্র

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল হিসেবে খ্যাত উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের পর এটি হবে তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র। ইতিমধ্যে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। চা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় এই চা নিলাম কেন্দ্রটি চালু হলে বদলে যাবে ওই এলাকার চা চাষিদের ভাগ্য।

সেই সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিপুল রাজস্ব জমা হবে সরকারের কোষাগারে।

সরকারের এমন ঘোষণার প্রেক্ষিতে নিলাম কেন্দ্রের জন্য একটি ভবনও গড়ে উঠেছে। উদ্যোক্তারা ইতোমধ্যে চা ওয়্যার হাউজ, ব্রোকার হাউজ সহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ করে প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি।  দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চা উৎপাদন হচ্ছে এই জেলায়। হিমালয় বিধৌত সমতল এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষকরা বাড়ির আনাচে কানাচেও গড়ে তুলেছেন চা বাগান। দেশের দুটি চা নিলাম কেন্দ্রর মাধ্যমে সারা বিশ্বে কদর বাড়ছে পঞ্চগড়ের দার্জিলিং স্বাদের এই চায়ের। জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা নিলাম কেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে নিলামকৃত ৭০ শতাংশ চা আসছে পঞ্চগড় থেকে।  

জেলার ক্ষুদ্র চা চাষিদের অভিযোগ, চা কারখানা মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একচেটিয়া ব্যবসা করলেও কাঁচা চা পাতার নায্য মুল্য পাচ্ছেন না তারা। কারখানা মালিকরা হাজার হাজার কেজি চা পাতা চোরাচালানের মাধ্যমে বিক্রী করছেন। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। তৈরী চা উৎপাদন এবং অবৈধপথে বিপণনের সাথে জড়িত ব্যবসায়িরা লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র চা চাষিরা লোকশান গুণতে গুণতে চা বাগান কেটে ফেলার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।  

এদিকে কারখানা মালিকরা বলছেন, শত শত কিলোমিটার দুরে চ্ট্রগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্রে তৈরী চায়ের বিপণন করতে গিয়ে সঠিক মুল্য পাচ্ছেন না তারা। এর জন্য পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। রাস্তায় জ্যাম এবং দুরত্বের কারণে সময় লাগে বেশি। ওয়্যার হাউজে বেশি দিন রাখতে হয় বলে চায়ের মানও খারাপ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ছে চাষিদের ওপর।  এই দ্বিমুখী সমস্যা সমাধানের জন্য বছর খানেক আগে পঞ্চগড়ে তৃতীয় চা নিলামকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা হয় সরকারীভাবে। নানা ধরণের প্রস্তুতিও নেয় বাংলাদেশ চা বোর্ড।  সরকারের এই ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য এখন অধীর আগ্রহে আছেন ক্ষুদ্র চা চাষি, কারখানা মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। ক্ষুদ্র চাষিরা বলছেন, এখনো কাঁচা চা পাতার নায্য মুল্য পাচ্ছেন না তারা। কারখানা মালিকরা চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের চা নিলোম কেন্দ্রের দুরত্বের অজুহাত তুলে সঠিক মুল্য প্রদান করছেনা তাদের। চা নিলাম কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হলে এই সংকট কেটে যাবে তাদের।





আরো পড়ুন