• মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

মিরসরাইয়ে এমপি পুত্রের পিএস হাবিব খান গ্রেফতার

/ ৮১ বার পঠিত
আপডেট: রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অনলাইন ডেস্কঃ-
কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও হামলা চালানোর অভিযোগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে রাজপুত্র হিসেবে খ্যাত ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেলের পিএস আবুল হাসনাত প্রকাশ রাজাকার পুত্র হাবিব খানকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি অভিযানিক দল উপজেলার মঘাদিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট এলাকায় সরকারের উন্নয়ন প্রচার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গেলে তার ওপর অতর্কিত হামলার নির্দেশ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালায় হাবিব খান। এদের মধ্যে স্থানীয় দুই ইউপি চেয়ারম্যান, ছাত্রলীগ ও যুবলীগেরর নেতাকর্মী রয়েছে। তারা সবাই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেলের অনুসারী হিসেহে পরিচিত।

অপপ্রচার ও হামলার ঘটনায় গত ৩ আগস্ট নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের প্রধান রাজনৈতিক সমন্বয়ক ও বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রাম উত্তরজেলার সভাপতি যুবলীগ নেতা আছিফুর রহমান শাহীন বাদি হয়ে বনানী থানায় ১৩ জনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় হাবিব খানকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, হাবিব খানের দেওয়া তথ্যানুসারে মামলার অন্যান্য আসামি ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মাস্টার, ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুনুর বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন।

মিরসরাই থানা সূত্রে জানা যায়, আটককৃত হাবিব খান ও মামলার অন্যতম আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন মাস্টাদ্ধে বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। হাবিব খানের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে প্রবাসী সিআইপি ফখরুল ইসলাম খাঁনের করা একটি মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন।

এর আগে গত বছরের ১৯ নভেম্বর একই অভিযোগে আবুল হাসনাত ওরফে হাবিব খানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আশরাফুল কালাম মিঠু নামে একজনকে আটক করেছিল ডিবি পুলিশ। অভিযোগে হাবিব খানকে রাজাকার পরিবারের সন্তান, সাবেক শিবির ক্যাডার এবং মিঠুকে ছাত্রদলের সাবেক অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মিমাংসা হয়।

নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের প্রধান রাজনৈতিক সমন্বয়ক ও যুবলীগ নেতা মো. আছিফুর রহমান বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের বিরুদ্ধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আসামিদের বারবার সতর্ক করা হলেও তারা কর্ণপাত করেননি। তাই বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি আসামিরা বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের ওপর সশস্ত্র হামলা করেছে। এমনকি গত ১৭ই জুন মিরসরাইয়ে এলিটের নেতৃত্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচারের সময় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রচারণায় অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন এবং কাউন্টার টেরোরিজমের অভিযানকে সহায়তাকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আজমীরের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।


আরো পড়ুন