• মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
171764904_843966756543169_3638091190458102178_n

বঙ্গোপসাগরে ১৬ টি জেলে নৌকা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ১২ জন জলদস্যুকে গ্রেফতার

/ ২৩ বার পঠিত
আপডেট: রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
বঙ্গোপসাগরে ১৬ টি জেলে নৌকা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ১২ জন জলদস্যুকে গ্রেফতার

গভীর সমুদ্রে এবং বাঁশখালীতে ৪৮ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে সাম্প্রতিক কালে বঙ্গোপসাগরে ১৬ টি জেলে নৌকা ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত ১২ জন জলদস্যুকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম র‍্যাব-৭ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সহ দেশীয় অস্ত্র, তিন হাজার পিসের অধিক ডাকাতিককৃত ইলিশ মাছ, বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল ও ডাকাতের কাজে ব্যবহৃত নৌকা জব্দ।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম ভুমিকাপালনকারী মাৎস শিকারী জেলে ভাইদের মাছ ধরার কাজটি নির্বিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য জলদস্যূর বিরুদ্ধে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম সর্বদাই সোচ্চার। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গোপসাগরে একটি জলদস্যূ বাহিনি সক্রিয় হয়ে নতূন করে দস্যুতা আরম্ভ করেছে এমন অভিযোগ আসছিল।

আটককৃত আসামীরা হলোঃ ১/ আনোয়ার (মালিকের ছেলে, মূলহোতা), পিতাঃ আনসার মেম্বার, ২/ লিয়াকত (মাঝি), পিতাঃ কবির আহমেদ, ৩/ মনির, পিতাঃ মোঃ আবদুল কাদের, ৪/ আবুল খায়ের (ইঞ্জিন ড্রাইভার), পিতাঃ মৃত জয়নাল আবেদীন, ৫/ নবীর হোসেন, পিতাঃ মৃত আব্বাছ, ৬/ নেজামউদ্দিন, পিতাঃ মৃত মুক্তার আহমেদ, ৭/ হুমায়ুন, পিতাঃ আব্দুল কাদের, ৮/ সাহেদ, পিতাঃ হাজী আবুল হাসান, ৯/ সাদ্দাম, পিতাঃ আবু তাহের, ১০/ আতিক, পিতাঃ মো ইব্রাহিম, ১১/ এমরান, পিতাঃ মোঃ জহির এবং ১২/ আমানউল্লাহ, পিতাঃ মৃত ইসলাম মিয়া বাঁশখালী, চট্টগ্রাম। পরবর্তীতে আটককৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ তারা সমূদ্রে বিভিন্ন বোটে ডাকাতি করেছে বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করে এবং তাদের হেফাজত থেকে ০১টি বোট, আনুমানিক ৩,০০০ পিস ইলিশ মাছ, মাছ ধরার রড় জাল, ০৩টি ওয়ান শুটারগান, ০১টি চাইনিজ কুড়াল, ১৬টি দা ও ছুরি, ০১টি বাইনোকুলার, ০৪টি টর্চ লাইট, ০২টি চার্জ লাইট, ০২টি হ্যান্ড মাইক, ৭০ টি মোবাইল, নগদ ৫,৭০০ টাকা উদ্ধারসহ আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ জানা যায়, পূর্বে তারা বোট নিয়ে সাগরে গিয়ে অল্প পরিমান মাছ পায় ফলে বোটের মালিক আনছার মেম্বার বোটের সদস্যদের কোন টাকা-পয়সা না দিয়ে তাদের আদেশ প্রদান করে যে, মাছ ধরতে না পারলে ডাকাতি করে মাছ নিয়ে আসতে হবে। আনছার মেম্বার ও তার দলের মূল্য উদ্দেশ্য ছিল অল্প পরিশ্রমে অধিক মুনাফা লাভ করা। এর জন্যই নিজের সন্তানকে ডাকাত সর্দার বানিয়ে বোট ডাকাতি করার জন্য সাগরে প্রেরন করে। এছাড়াও আটককৃত আসামীদের নিজ মূখে স্বীকারোক্তি মতে, তারা পূর্বের ৯টি এবং বর্তমানে ৭টিসহ সর্বমোট ১৬টি বোট ডাকাতি করেছে বলে জানায়।

উল্লেখ্য, সিডিএমএস পর্যালোচনা করে ধৃত ০১নং আসামী আনোয়ার (আনছার মেম্বারের ছেলে, মূলহোতা) এর নামে ০৩ টিসহ প্রত্যেকেরই বিরুদ্ধেই চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানায় জলদস্যূতা, সস্ত্রাসী, ডাকাতি, দুর্ধষ চাঁদাবাজী, হত্যাচেষ্টা এবং অপহরণকারী সংক্রান্তে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরো পড়ুন