• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

রাধানীর বভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি’সহ চোর চক্রের ০৪ সদস্যকে গ্রেফতার

/ ৫৪ বার পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি প্লাষ্টিক ফ্যাক্টরীর মালিক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবু কাসেদ (৫৩), পিতা-মৃত সিরাজুল ইসলাম গত ০৩ ফ্রেবরুয়ারী ২০২৪ ইং তারিখ আনুমানিক রাত ০৩:০০ মিনিটের সময় তার উৎপাদিত আনুমানিক ২,৫০,০০০/- (দুই পঞ্চাশ হাজার) টাকা মূল্যমানের ৩২,০০০ (বত্রিশ হাজার) পিস প্লাষ্টিকের বোতলসহ একটি কাভার্ড ভ্যান গাড়ি উল্লেখিত ফ্যাক্টরীর সামনে রেখে বাসায় চলে যায়। অতঃপর ঐদিন ভোররাত আনুমানিক ০৪:০০ মিনিটের সময় উক্ত ফ্যাক্টরীর সামনে এসে দেখতে পায় তার গাড়িটি যথাস্থানে নেই। পরবর্তীতে আবু কাসেদ আশপাশের বিভিন্ন স্থানসহ সম্ভাব্য সকল জায়গায় খুঁজাখোঁজি করে তার গাড়ির কোন সন্ধান না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। ঐদিন দুপুর আনুমানিক ১২:০০ মিনিটের সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে আবু কাসেদকে জানায় যে, প্লাষ্টিকের বোতল বোঝাই করা গাড়িটি অজ্ঞাত ব্যক্তির হেফাজতে আছে এবং উক্ত গাড়িটি ফেরৎ পেতে হলে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা প্রদান করতে হবে।

উক্ত ঘটনার পর আবু কাসেদ ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্লাষ্টিকের বোতলসহ কাভার্ড ভ্যান গাড়ি যার রেজি নং- (ঢাকা মেট্রো-ম-১১-৪৯২১) আনুমানিক মূল্য-১৭,০০,০০০/- টাকা চুরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৬, তারিখ ০৩/০৩/২০২৪ খ্রিঃ তারিখ, ধারা-৩৭৯ দন্ড বিধি।

পরবর্তীতে উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অজ্ঞাত গাড়ি চোর চক্রটিকে গ্রেফতার ও চুরিকৃত মালামালসহ গাড়িটি উদ্ধারের লক্ষ্যে অধিনায়ক র‌্যাব-১০ বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন। উক্ত অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গাড়ি চোর চক্রটিকে গ্রেফতার ও চুরিকৃত গাড়িটি উদ্ধারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১০ মার্চ ২০২৪ ইং তারিখ আনুমানিক রাত ১১.৫০ ঘটিকা হতে অদ্য ১১ মার্চ ২০২৪ খ্রিঃ আনুমানিক সকাল ০৯:০০ মিনিট পর্যন্ত র‍্যাব-১০ উক্ত আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন জাউলাপাড়া চুনকুটিয়া এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১/ মোঃ কামাল হাওলাদার ওরফে কামরুল ওরফে রাসেল (৪০), পিতা: মৃত আব্দুল মালেক হাওলাদার, সাং: মেঘপাল, থানা: কাউখালী, জেলা: পিরোজপুর’কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত কামাল ওরফে রাসেলের (৪০) দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই তারিখ অদ্য ১১ মার্চ ২০২৪ ইং মাঝরাত ০৩.১০ মিনিটের সময় ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী ২/ মোঃ মোশারফ হোসেন ওরফে জুয়েল (৩৬), পিতা: মৃত ইউসুফ আলী, সাং: বুদ্ধিজীবী শহিন মিনার, মাজার রোড, ঢাকা’কে গ্রেফতার করে। জুয়েলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই তারিখ সকাল ০৬.৩০ মিনিটের সময় গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন বাহাদুরপুর ভীম বাজার কনকর্ড কনস্ট্রাকশন বাগানের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর হতে পরিত্যাক্ত অবস্থায় বর্ণিত মামলার ঘটনায় চুরি যাওয়া গাড়ি (কাভার্ডভ্যান) উদ্ধার করে এবং ধৃত আসামীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই তারিখ ০৯.০০ মিনিটের সময় ডিএমপি ঢাকার শাহআলি থানাধীন নবাবেরবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় তাদের অপর দুই সহযোগী ৩/ মোঃ মফিজ ঢালী ওরফে আলম (৬০), পিত: মৃত আলতাজ উদ্দীন ঢালী, সাং: ভাঙ্গুনিয়া, দিঘিরপাড়, থানা: টংগীবাড়ী, জেলা: মুন্সিগঞ্জ এবং ৪/ মোঃ কামাল হাওলাদার (২৭), পিতা: মৃত সাইদুল হক, সাং: টেংরাখালী, থানা: পটুয়াখালী সদর, জেলা: পটুয়াখালী’কে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত অভিযানে চুরিকৃত ০১টি কাভার্ডভ্যান উদ্ধারসহ তাদের নিকট থেকে ০২টি চুরিকৃত স্পেয়ার টায়ার, ০৫টি মোবাইল ফোন ও নগদ-২,৮৪০/- (দুই হাজার আটশত চল্লিশ) টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত জুয়েল (৩৬) ও কামাল (৪০) বেশ কয়েকদিন যাবৎ উক্ত গাড়িটি চুরির পরিকল্পনা করছিল। যার ধারাবাহিকতায় গত ০৩/০২/২০২৪ ইং তারিখ আনুমানিক রাত ০৩:০০ মিনিটের সময় আবু কাসেদ তার গাড়িটি উল্লেখিত ফ্যাক্টরীর সামনে রেখে বাসায় চলে গেলে পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা জুয়েল আনুমানিক রাত ০৩:৩০ মিনিটের সময় তার কাছে থাকা নকল চাবি দ্বারা উক্ত গাড়িটি স্টার্ট দিয়ে দ্রæত ঘটনাস্থল হতে প্লাষ্টিকের বোতল বোঝাই করা গাড়িটি চুরি করে তার পূর্বপরিকল্পিত সুবিধাজনক স্থান গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এলাকায় নিয়ে যায়। অতঃপর উক্ত গাড়ির মালিক আবু কাসেদকে ফোন করে উক্ত মালামালসহ গাড়িটি ফেরৎ দেওয়ার বিনিময়ে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে আবু কাসেদের কাছ থেকে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে উক্ত গাড়ির ০৬টি টায়ার ও গাড়িতে থাকা ৩২,০০০ (বত্রিশ হাজার) পিস প্লাষ্টিকের বোতল তার অপর সহযোগী আলম (৬০) ও কামাল (২৭)দ্বয়ের সহযোগীতায় বিক্রি করে দেয় এবং উল্লেখিত গাড়ির টায়ার ও প্লাষ্টিকের বোতল বিক্রির অর্থ তারা সবাই মিলে ভাগ করে নেয়।

৭। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, চক্রটি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে গাড়ি চুরির সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। তারা বিভিন্ন এলাকা হতে সময় ও সুযোগ বুঝে নকল চাবি ব্যবহার করে মুহুর্তেই ট্রাক, প্রাইভেট কার, পিকআপ ইত্যাদি গাড়ি চুরি করে দূরবর্তী স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত গাড়ির মালিকের নিকট হতে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তারা দাবিকৃত টাকা না পেলে উক্ত গাড়ির রং ও নম্বর প্লেট ইত্যাদি পরিবর্তন করে অনত্র বিক্রি করতো বলে জানা যায়। মূলত নেশার টাকা সংগ্রহ করার জন্যই তারা উক্ত গাড়ি চুরির পেশাটি বেছে নেয় বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত মোঃ মোশারফ হোসেন ওরফে জুয়েল (৩৬) উক্ত গাড়ি চোর চক্রটির মুলহোতা। সে পেশায় একজন বাস চালক, উক্ত পেশার আড়ালে সে বিভিন্ন এলাকা হতে গাড়ি চুরির পরিকল্পনা করতো। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রাজধানীর ওয়ারী,দারুস সালাম এবং নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় গাড়ি চুরিসহ ০৩ টি চুরির মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত মোঃ কামাল হাওলাদার ওরফে কামরুল ওরফে রাসেল (৪০) পেশায় একজন লেগুনা চালক। উক্ত পেশার আড়ালে সে জুয়েলের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল। এক্ষেত্রে সে বিভিন্ন এলাকা হতে টার্গেট গাড়ি খুজে উক্ত গাড়ি ও অবস্থান সম্পর্কে জুয়েলকে তথ্য প্রদান করতো। এছাড়া বিভিন্ন গাড়ি স্টার্ট দিতে সক্ষম জুয়েলের কাছে থাকা নকল চাবি (মাস্টার কী) কামাল সংগ্রহ করে জুয়েলকে সরবরাহ করতো। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পিরোজপুরের কাউখালী থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

গ্রেফাতরকৃত মোঃ মফিজ ঢালী ওরফে আলম (৬০) এর একটি টায়ারের দোকান আছে উক্ত ব্যবসার আড়ালে সে বিভিন্ন চোরাইকৃত গাড়ির টায়ারসহ গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় করতো বলে জানা যায়। গ্রেফাতরকৃত মোঃ কামাল হাওলাদার (২৭) পেশায় প্লাস্টিক ও ভাঙ্গারির মালামাল ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসার সাথে জড়িত এবং উক্ত ব্যবসার আড়ালে সে চোরাইকৃত বিভিন্ন মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের করে আসছিল বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আরো পড়ুন