• শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩৩ অপরাহ্ন

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম জোটের বিক্ষোভ

/ ৩৯ বার পঠিত
আপডেট: শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

অনলাইন ডেস্ক:
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি না মানলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত আজ অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার ১ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার পুরানা পল্টন মোড়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আগামী ৩ মার্চ থেকে সপ্তাহব্যাপী সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের গাল গল্প এমনই জায়গায় পৌঁছেছে যে আজ বলা হচ্ছে, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আর ২৯ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা দিয়ে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো এবং বলা হলো আগামী অন্তত তিন বছর এভাবেই দাম বাড়তে থাকবে।

তিনি বলেন, সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে নীতি, যাকে আমরা ‘ভুল নীতি’ বলে অভিহিত করি এই ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে আজ জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাত অর্থনীতিতে ও জনগণের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। এই কাটা উপড়ে ফেলার পরিবর্তে জনগণকেই কাঁটায় বিদ্ধ করার নীতি নিয়েছে সরকার। তাইতো প্রকৃত আয় কমে যাওয়া সাধারণ মানুষের কাঁধে আবারও এই মূল্য বৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম, প্রধানত গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপরে নির্ভর করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। সরকার সেই পথে না হেঁটে কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও কমিশনভোগীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য আমদানি নির্ভর জ্বালানি দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতি গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কেন্দ্র বসিয়ে রেখে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে এদের দেওয়া হয়েছে ও হচ্ছে।

তিনি অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও বিদ্যুতের ভুলনীতি ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র নেতা ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতা শামীম ইমাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির আব্দুল আলী ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির আমেনা আক্তার। সভা পরিচালনা করেন সিপিবি নেতা অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা।

বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, গ্যাস ও কয়লার বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও ফার্নেস ওয়েলের মাধ্যমে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচের ফারাক অনেক। সরকার ফার্নেস ওয়েলে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেশি দেখাচ্ছে। জনগণের মতামত শুনে এই খাত পরিচালিত করলে আজ দুরাবস্থায় পড়তে হতো না। এই দুরাবস্থার দায় জনগণ নেবে না। তিনি এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশের সচেতন মানুষকে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতা ডা. হারুন-অর-রশিদ, বাসদ মার্কসবাদী’র সীমা দত্তসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব-তোপখানা ঘুরে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়। এছাড়াও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে আজ দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।


আরো পড়ুন