• সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
Headline
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮বিজিবি) কর্তৃক মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। লক্ষ্মীপুর হাজিগঞ্জ ও গৌরীপুর জেলা সড়ক ২টি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হতে যাচ্ছে! ফেসবুকে আনন্দ খোঁজা নিছক মেকি বা প্রহসনের নামান্তর লক্ষ্মীপুরে দুই’শ ভূমিহীন পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর জমির দলিলসহ ঘর উপহার ছাতকে খাবারে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ২ সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়ায় সমাবেশ ! সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার স্থায়ী জামিন নয় অব্যাহতি চাই: বিএমএসএফ ! গাজীপুরে সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ! সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ! পুলিশকে ঘুষ দেয়ার অভিযোগে মালয়েশিয়ায় দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরে সদরে ৮০ বছর ধরে জল্লাদের খেয়ায় পারাপার হচ্ছে মানুষ!

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর / ১০৩ Time View
Update : বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১

৮০ বছর ধরে খেয়া পারাপার হচ্ছে তিন অঞ্চলের মানুষজন। নূর হোসেন নামের এই বৃদ্ধলোক ১৫ বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ জন পার করছেন।শুধু মানুষ নয় একই সাথে পার করছেন মোটরসাইকেল, রিক্সা, বাইসাইকেলসহ নানা সবজি বোঝাও।
প্রতি খন্দে বা মৌসুমে খেয়া-পারাপার বাবদ নূর হোসেনকে নিকটবর্তী স্থানীয়রা নির্দিষ্ট করে বা ঘরের লোক অনুপাতে হার করে ধান বা সমপর্যায়ের অন্য যে কোন ফসল অথবা টাকা দিয়ে থাকেন। দূরবর্তী স্থানীয়রা গন্তব্য অনুযায়ী নগদ টাকা পরিশোধ করে পার হন।
‘জল্লাদের খেয়া’ নামে অধিক পরিচিত। এলজিইডি কর্মকর্তা নিজেই এ নামে চেনেন বলে জানালেন। জল্লাদের খেয়া কেন নামকরণ করা হয়েছে তা যৎসামান্য জানা গেল। তবে বিশদভাবে কেউ কিছু বলতে পারবেন না। জল্লাদের খেয়া বলতে একসময় এখানে জল্লাদেরা মানুষকে ধরত, মানে ডাকাতেরা স্থানীয় মানুষকে ধরে সর্বশান্ত করে সব নিয়ে যেতো। কেউ যদি জোর করতে চাইতো তবে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করতো। তাদের কাছে এই জন্য এরা জল্লাদের খেয়া নামেই পরিচিত।
লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের ২১ নং টুমচর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে এই জল্লাদের খেয়া। প্রথমে আমরাও দুইটি মটরবাইক নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলাম। পরে ওপার থেকে যাত্রী বোঝাই করে আসা খেয়া ঘাটের মাঝি অভয় দিলেন এবং খুব সতর্কতার সাথে ওপারে খাড়া ঢাল থাকা সত্ত্বেও নিরাপদে পৌঁছে দিলেন।
কলেজছাত্র রাকিব হোসেন জানালেন তার জীবনের প্রভাব ফেলা এই খেয়া-পারাপার টির কথা। ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় সে নিজে কয়েকবার পা পিছলে খেয়া থেকে পানিতে পড়ে যায়। নিদিষ্ট সময়ের এক দেড় ঘণ্টা আগে তাকে বাড়ি থেকে রওনা দিতে হয়। এ খেয়া পার হতে গিয়ে দুইজন স্কুলের শিশু বাচ্চাও মারা গেছে নদীতে পড়ে।
জন্মের পর থেকে খেয়া পার হওয়া রহিম উদ্দিন বলেন- কী কমু বাপু! এই খেয়া পার হয়েই এই জীবন পার হয়ে গেল। বাপ-দাদা এ খেয়াতে পার হয়েছেন, আমিও পার হয়েছি। আমার নাতি পুতিরাও এই খেয়াতে পার হচ্ছে। আর ব্রীজের দেখা পাবো বলে মনে হয়না। ব্রিজ তো আমাদের জন্য স্বপ্ন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রার্থী বেল্লাল হোসেন বলেন-বহু চেষ্টা করেছি একটা ব্রিজের জন্য। কতবার ইঞ্জিনিয়াররা এলো গেলো, মাপজোক হলো, আদতে কাজের কাজ কিছুই হল না। এরকম বহু বার হয়েছে, সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। কই ব্রীজ তো হল না।
এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ফখরুল ইসলাম বলেন -সয়েল টেস্ট ও মাপ নেয়াসহ প্রোফাইল তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। পাশ হয়ে এলে আশা করছি শিগগিরই ব্রিজের কাজ শুরু হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category