১১ মাসের শিশুকণ্যাকে নিয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মনি

0
80

১১ মাসের শিশুকণ্যাকে নিয়ে বিচারস্টাফ রিপোর্টারঃ- ১১ মাসের শিশুকণ্যাকে নিয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কুমিল্লা সদরের আড়াইওড়া এলাকার মমিন চৌধুরীর মেয়ে মনি চৌধুরী। প্রভাবশালী স্বামীর নির্যাতনের শিকার মনি এখন তার ছোট শিশুটিকে নিয়ে এখন নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। নারী ও শিশু সহায়তা সেলের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন গৃহবধু মনি।

গৃহবধু মনি জানান, সন্তান জন্ম নেওয়ার পর তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় তার স্বামী দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নাই মেছোবাড়ি গ্রামের মোঃ মহিউদ্দিনের ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান। এরপর থেকে তাকে আর নিজ বাড়িতে নিচ্ছেন না স্বামী মেহেদী।

মনি জানান, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ মেহেদী হাসান আমাকে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে করে। দাম্পত্য জীবনে বিবাদী মেহেদী হাসানের ওরষে আমার গর্ভে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর হতে স্বামী মেহেদী হাসান শশুর মহিউদ্দিন , শাশুড়ি মাহমুদা, দেবর সাঈদী আমার নিকট ২ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবী করে। পরে না পেয়ে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার পাশাপাশি মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। আমি বিষয়টি আমার অভিভাবকদের জানাই।

ভবিষ্যত সুখের আশায় তাদের সকল অত্যাচার নির্যাতন নিরবে সহ্য করি। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট সকাল ৭ টার সময় বসত ঘরের ভিতরে ঢুকে তারা ২ লক্ষ টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। আমি এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে এলো পাথাড়ি কিল,ঘুষি লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে আমার স্বামী আমাকে বাচ্ছাসহ নিজ বাড়িতে এনে দিয়ে চলে যায়। আমি আমার শিশু কন্যা সহ আমার বাবার বাড়িতে বসবাস করা অবস্থায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ,মিমাংসার লক্ষ্যে কয়েক দফা শালিস বৈঠক বসে। কিন্তু বিবাদী মেহেদী হাসান অপরাপর বিবাদীদের প্ররোচনায় ও সহায়তায় আমার আমার নিকট পূনরায় ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে।

বিবাদীদের দাবীকৃত যৌতুকের টাকা না দেওয়া পযর্ন্ত আমাকেসহ আমার শিশু কন্যা সন্তানকে তার বাড়িতে নিয়ে যাবে না বলে দেয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ জুলাই সকাল ৯ টার সময় আমার স্বামী মেহেদী হাসানসহ তার পরিবারের লোকজন আমার বাবার বাড়িতে আসে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বিবাদীদেরকে আদর আপ্যায়ন করা অবস্থায় তারা আবার ২ লক্ষ টাকা দাবি করে। আমরা এর প্রতিবাদ করায় আমার স্বামী আমাকে পুনরায় মারধর করে,হত্যার উদ্দেশ্যে দু,হাত দিয়ে আমার গলা চাপিয়া ধরে শ্বাসরুদ্ধ করিয়া আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। আমি কোন রকমে নিজেকে মুক্ত করি। এরপর তারা দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা আমাকে শশুর বাড়িতে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। আমি এখন অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছি। সে আ’লীগের অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাই কোন জায়গায় বিচার পাচ্ছি না। আমি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here