বড় হয়ে মা-বাবার সম্পত্তিতে ভাগ বসাবে, তাই ছোট বোনকে হত্যা !

0
220
বড় হয়ে মা-বাবার সম্পত্তিতে ভাগ বসাবে, তাই ছোট বোনকে হত্যা
বড় হয়ে মা-বাবার সম্পত্তিতে ভাগ বসাবে, তাই ছোট বোনকে হত্যা

ছোট বোন মা-বাবার বেশি আদর পাচ্ছে। বড় হয়ে সে সম্পত্তিতে ভাগ বসাবে। এমন উদ্ভট চিন্তা থেকে ছোট বোনকে হত্যা করেছে কিশোর বড় ভাই। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে ঘটেছে এমন ঘটনা।

ঘাতক আল-আমিন সজীব (১৪) র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে কড়াইল বস্তি থেকে সজীবকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

একমাত্র বোন মিমকে (৪) গত বুধবার সকালে গলা টিপে হত্যা করে সে। জিজ্ঞাসাবাদে সজীব জানিয়েছে, মা-বাবার সম্পত্তি ও ভালোবাসায় ভাগ বসানোই ছিল তার বোন মিমের অপরাধ!

র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, কড়াইল বস্তির জামাইবাজার এলাকার লিটন মিয়া বনানী এলাকায় পেয়ারা ও আমড়া বিক্রি করেন এবং তাঁর স্ত্রী রুপসানা বেগম গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাঁদের দুই সন্তানের মধ্যে সজীব বড়, মিম ছোট। প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে লিটন ও তাঁর স্ত্রী কাজে চলে যান। পরে বাসায় ফিরে ছোট্ট মিমকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তাকে না পেয়ে স্থানীয় আল-মদিনা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে বাসা থেকে কিছুটা দূরে একটি গোসলখানা থেকে মিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে র‌্যাব ১০ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করে নিহতের বড় ভাই স্থানীয় আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সজীবকে।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, সজীব মনে করে, ছোট বোন মিম জন্মানোর পর থেকে সজীবের প্রতি মা-বাবার ভালোবাসা কমতে থাকে। তার ওপর কারণে-অকারণে বাবা তাকে নির্দয় প্রহার করে। এ কারণে ছোট বোনের প্রতি তার ক্ষোভ জন্মাতে থাকে এবং সব কিছুর জন্য তাকে দায়ী মনে করতে থাকে সে। প্রতিদিন বাসায় ফিরে বাবা মিমকে কাছে ডেকে নিত এবং আদর করত। মা-বাবা দুজনই ছোট বোনের সব আবদার পূরণ করলেও তাঁর বেলায় বিপরীত ঘটনা ঘটত। তাই সে মিমকে মা-বাবার চোখের আড়াল করার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আঁটতে থাকে, যাতে সে আগের মতো আদর, ভালোবাসা পেতে পারে।

ঘটনার বর্ণনায় সজীব র‌্যাবকে জানায়, বুধবার সকালে পার্শ্ববর্তী মাদরাসা থেকে পড়া শেষে বাসায় ফিরে ছোট বোন মিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে। এ সময় ঘরে মা-বাবা কেউ না থাকার সুযোগে ঘুমন্ত ছোট বোনকে গলাটিপে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলে। পরে তাঁর বাবা বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। একপর্যায়ে বাবা বাসার বাইরে মিমকে খুঁজতে যায়। এই সুযোগে মিমের লাশ পাশের গোসলখানায় রেখে আসে সজীব।

এদিকে একমাত্র ছেলের হাতে একমাত্র মেয়ের হত্যার ঘটনায় রুপসানা বেগম বিলাপ করে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। বাবা লিটন মিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সজীব এমন কাজ ক্যামনে করল? ছোট বাচ্চারে সবাই একটু বেশিই আদর করে। আমরাও তেমন করছি। ও (সজীব) কথা শুনত না বইলা শাসন করছি। এতে এই রকম হইব বুঝি নাই। ও তো আমাদের একমাত্র ছেলে। আমরা এখন কী নিয়া বাঁচমু…?’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here