• বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি শহিদুল্লাহ চৌধুরী গ্রেফতার

/ ২২ বার পঠিত
আপডেট: বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:-
নিহত ভিকটিম আব্দুল শুক্কুর (৩২) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানাধীন বাজালিয়া ২নং ওয়ার্ডের বড়দুয়ার এলাকার মুহাম্মদ ইউনুসের ছেলে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করলেও নিহত ভিকটিম আব্দুল শুক্কুর বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত এর মালিকানাধীন একটি ফিলিং ষ্টেশনে চাকুরি করতেন। নির্বাচন কমিশন কর্র্তৃক ঘোষিত ৭ম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনের অংশ হিসেবে গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ইং তারিখ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে তাপস কান্তি দত্ত অংশগ্রহণ করেন এবং নিহত ভিকটিম আব্দুল শুক্কুর তার মালিক তাপস কান্তি’র পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করেন। এতে প্রতিপক্ষ দল নিহত ভিকটিম আব্দুল শুক্কুরের উপর ক্ষিপ্ত হন এবং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

পরবর্তীতে গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ইং নির্বাচনের দিন নিহত ভিকটিম আব্দুল শুক্কুর ফিলিং ষ্টেশনের চাবি আনার জন্য তার মালিক তাপস কান্তি’ দত্তের কাছে রওনা হলে পথিমধ্যে ধৃত আসামী শহিদুল্লাহ চৌধুরী তার দলবল নিয়ে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকে এবং আব্দুল শুক্কুর এর পথরোধ করে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে আব্দুল শুক্কুর মাটিতে লুটিয়ে পরলে এসময় আসামী শহিদুল্লাহ চৌধুরী তার হাতে থাকা বন্দুুক দিয়ে তাকে গুলে করে। আসামী শহিদুল্লাহ চৌধুরী’র এলোপাথারি গুলি বর্ষণের ফলে নিহত ভিকটিম আব্দুল শুক্কুর রক্তাক্ত গুরুত্বর জখম অবস্থায় চিৎকার করতে থাকলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে এসময় আসামী শহিদুল্লাহ চৌধুরী ও তার অপরাপর সহযোগীরা শুক্কুর’কে বিভিন্ন রকম হুমকি ও ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল শুক্কুর’কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেরানীহাট মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরিক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উক্ত ঘটনায় নিহত ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানায় ২১ জন নামীয় এবং ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং ১২, তারিখ ০৯ ফেব্রæয়ারি ২০২২ খ্রিঃ, ধারা-১৪৩/৩৪১/৩০২/৩৭৯ পেনাল কোড ১৮৬০।

র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম বর্ণিত নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম ও ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বর্ণিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং ও প্রধান আসামি শহিদুল্লাহ চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ২৮ নভেম্বর ২০২৩ইং তারিখ আনুমানিক রাত ০৩৫০ ঘটিকায় র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি অভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি শহিদুল্লাহ চৌধুরী (৫৬), পিতা-মৃত আব্দুস সাত্তার, সাং-মীরপাড়া, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে বর্ণিত হত্যা মামলার ১নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় সে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট হতে গ্রেফতার এড়াতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরো পড়ুন