• শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

“ভাওয়াল গড়ের সাংবাদিক প্রশিক্ষণ যেন স্বজন সমাবেশ” সাঈদুর রহমান রিমন।

/ ১২৮ বার পঠিত
আপডেট: সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩

অভাবনীয়! অভূতপূর্ব!! দেশবাংলা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া প্রত্যেক প্রশক্ষণার্থির কাছে আমি ঋণী হয়ে থাকলাম। এ ঋণ কৃতজ্ঞতার ঋণ, এ ঋণ আস্থাহীন সমাজে আমার প্রতি বিশ্বাস প্রদর্শনের ঋণ। ৬৪ জেলা এবং প্রায় ৯০টি উপজেলা থেকে আগত দেড় শতাধিক গণমাধ্যম কর্মী প্রশিক্ষণ, থাকা, খাওয়া সবকিছুকে উৎসবে পরিণত করেছেন। তাদের শৃংখলা, মমত্ববোধ, পরস্পরের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা, মেহমানদারিত্ব মিলিয়ে যেন স্বজন সমাবেশ ছিল। একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে না হতেই বন্ধুত্ব গড়েছেন, পরবর্তী কয়েক মুহূর্তেই হয়ে উঠেছেন পরিবারের সদস্য। এ এক অভাবনীয় দৃশ্যপট।


দেশবাংলা’র পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রশিক্ষণ থেকে অঘোষিত স্বজন সমাবেশের পরতে পরতে ছিল সমস্যা, সংকট, নানা সীমাবদ্ধতা। খুব ভালোমানের খাবারের আয়োজন যেমন করতে পারিনি, তেমনি প্রিয় সহকর্মীদের ঘুমানোর জন্যও যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু কোনো সমস্যাকেই পাত্তা দেননি প্রশিক্ষণার্থীরা, শিক্ষা আনন্দে সেসব বাধা হয়েও দাঁড়াতে পারেনি।
বলছিলাম গাজীপুর ভাওয়াল গড়ের হোতাপাড়া শ্যামলী রিসোর্টে গত ৯ ও ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণশালার কথা। মূলত ৯ অক্টোবর থেকে প্রশিক্ষণ শুরুর কথা থাকলেও প্রায় অর্ধেক প্রশিক্ষণার্থী ৮ অক্টোবর রাতের মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়ে যান। বাকি রাত কাটে দফায় দফায় নতুন অতিথিদের এগিয়ে আনার পালা।


দেশে সর্বাধিক সাংবাদিকের অংশ গ্রহণে সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক মনোবল যুগিয়েছেন সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দেশবাংলা’র প্রতিনিধিরা। তারা বলেছিলেন, সঙ্গে থাকা প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে তারা মেহমান হিসেবে মূল্যায়ন করবেন, তাদের সমস্যা লাঘবে ভূমিকা রাখবেন। হ্যা, দুই একটি ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।
শৃংখলার সাথে তিন দিনের যাবতীয় কার্যাদি সম্পাদনের জন্য চট্টগ্রামের বিশেষ প্রতিনিধি সোহাগ আরেফিনকে আহবায়ক এবং ভোলার সাংবাদিক এম এ আকরামকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম। তারা সরেজমিন বার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, খাগড়াছড়ির হাসান আল মামুন ভাই, স্বাধীন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার পিরোজপুর ভান্ডারিয়ার সোহেল সরদার এবং যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার আবুল কাশেমকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাদের টানা তিনদিন বিশ্রামের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। ব্যবস্থাপনা কমিটির হয়ে যাদের বিরতিহীন শ্রম, ছোটাছুটি, সবাইকে নানারকম সেবা দানে সদা ব্যস্ত দেখা গেছে তারা হলেন, পারভেজ মুন্না, গোলাম সারোয়ার, মেহেদী হাসান রিয়াদ, আজিজুর রহমান যুবরাজ, নেয়ামুল হাসান নিয়াজ, কাপাসিয়ার মাহবুর রহমান, শ্রীপুরের মাহবুব আলম, নুর আলম সিদ্দিকী মানু, হোতাপাড়ার আরিফ, সাভারের কামরুজ্জামান, চাঁপাইয়ের আলমগীর, নওগার শহিদুল, দিনাজপুরের দীপংকর, ধামরাইয়ের ইউসুফ বেপারী, বরিশালের মামুনুর রশিদ নোমানী, জুয়েল খন্দকার, টঙ্গীর নাদিম, কুষ্টিয়ার সাইফুল ইসলাম তন্ময়সহ কয়েকজন। অনিচ্ছাসত্বে কারো নাম বাদ পড়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তাদের আন্তরিকতা, বিরামহীন শ্রম সবাইকে মুগ্ধ করেছে।


দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা থেকে শৃংখলা, সহনশীলতা, সভ্যতা ও মনোযোগী ১০ প্রশিক্ষণার্থীকে আলাদা ভাবে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাছাই ক্ষেত্রে এসব গুণের অধিকারী হিসেবে নাম উঠে আসে প্রায় ৭০ জনের। অর্ধেক সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে বাকি অর্ধেক সদস্যদের পুরস্কার বঞ্চিত রাখা দৃষ্টিকটু হয় বিধায় সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছে। এটাও ছিল আরেক রকম ভালো লাগা।


রাত তিনটা চারটার দিকে ঘুরে ঘুরে দেখেছি, হলরুমে কিংবা গোলাকৃতির বাংলোর মেঝেতে সাংবাদিক বন্ধুরা শুয়ে বসে গল্প, আলোচনা, শিক্ষা বিনিময় করছেন দারুণ উচ্ছাসে। কেউবা রিসোর্টের ভেতরে ক্ষণিক হেঁটে ঘুম তাড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। ত্রুটি, বিচ্যুতি, অসঙ্গতি কম বেশি ছিলই তবে সব সীমাবদ্ধতায়ও যারা নিখাদ হাসি উপহার দিয়ে গেছেন, তাদের সে হাসি হৃদয়ের মাঝে আলাদা ক্যানভাস তৈরি করেছে,,,
দুই দিনের সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণের আয়োজন করে আমারও শেখ হয়েছে ঢের। বেশিরভাগ সাংবাদিক সংগঠনের কেউকেটা মার্কা নেতা আর পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশকরা অনেকেই মুখে বললেও বাস্তবে সাংবাদিকরা প্রশিক্ষিত হোক তা মোটেও চান না। প্রশিক্ষিত সাংবাদিকরা নিউজ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন, সাংবাদিকতা কি তা বুঝতে শিখেন আর নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেন। এখানেই তো সমস্যা,,,,
সমস্যা জঞ্জাল যাই হোক, দেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার ভিন্ন আদলের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া যায় কি না সেইটা ভাবুন তো! (প্রশিক্ষণ আর একত্রিত অবস্থান থেকে যা শিখলাম, যা শেখা হলো – এ ব্যাপারে আগামী মঙ্গলবার লেখা প্রকাশ করবো)


আরো পড়ুন