• শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

রোগীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে!

/ ৭০ বার পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩

মেরি আক্তার মেরি, নিজস্ব প্রতিবেদক:-
চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র পরিবর্তন করতে যাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক কর্তৃক দরজা বন্ধ করে এক রোগির মাথা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বিকেলের দিকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হাসপাতালে গিয়ে ওই চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে চিকিৎসককে মুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার মন্ডলপাড়া এলাকার মৃত শমছ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মো.জাহাঙ্গীর আলম (৬০) ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়ে গত ২৮মার্চ চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসানের কাছে গেলে চিকিৎসকের সাথে বসে থাকা ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি, ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে চিকিৎসক তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে রোগীকে মারধর করতে থাকলে রোগীর মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হাসপাতালের ওই চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে চিকিৎসককে মুক্ত করা হয়।

আহত রোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৩দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থেকে ডায়ারিয়া আরোগ্য না হওয়ায় চিকিৎসা পরিবর্তনের জন্য ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে ডা,মাহমুদুল হাসানের রুমে যাই। সেখানে প্রবেশ করা মাত্র একটি ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মরত প্রতিনিধি আরিফ আমার হাত থেকে কাগজটি কেড়ে নেয়।

তিনি কেন কাগজ কেড়ে নিলেন এমন কথা জানতে চাইলে ডা.হাসান ও আরিফ রুমের দরজা বন্ধ করে কিল-ঘুষি মারে এবং দেয়ালের সাথে ধাক্কা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় আমার।

মেডিকেল অফিসার ডা.মাহমুদুল হাসান জানান, রোগী আমার রুমে আসলে কোন একটি বিষয় নিয়ে আমার সাথে তার বাকবিতন্ডা বাধে। এসময় বাহির থেকে রোগীর অভিভাবক ক্ষিপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডা.আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি জরুরী মিটিংয়ে ছিলাম। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো.রুকুনুজ্জামান শাহীন বলেন, হাসপাতালে বিবাদমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। পরবর্তীতে বসে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, ডাক্তার ও রুগীর মাঝে একটা ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনা হচ্ছে। এছাড়াও আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। যদি আমাদের চিকিৎসকের অপরাধ থেকে থাকে তাহলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরো পড়ুন