• সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন

বিস্ফোরণের উৎসের সন্ধানে সিআইডি

/ ৭৮ বার পঠিত
আপডেট: রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক:-
রাজধানী গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির বেজমেন্টের কোন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে, তার সন্ধানে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে উৎসস্থল এখনো খুঁজে না পেলেও গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে সিআইডির ক্রাইম সিন শাখা।

এদিকে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হওয়া ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ স্থগিত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। গতকাল গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এখন ভবনটি প্রোপিংয়ের (সাময়িক স্থিতিশীল) কাজ করছে।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে আবদুল মালেক মিয়া নামে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করছে তার স্বজনরা। যদিও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল ঘটনাস্থলে আর কেউ নেই।

অন্যদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বংশাল থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে ঐ ঘটনায় মোট দুটি মামলা দায়ের হলো।

বিস্ফোরণের আহতদের মধ্যে বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মিলিয়ে মোট ২২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢামেক হাসপাতালে থাকা ১৪ জনের মধ্যে একজন সেখানকার নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন। বাকিরা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। ভবনটিতে রাজউকের প্রোপিংয়ের কাজ গতকাল সকাল থেকে শুরু হয়। এ কাজে যাতে নির্বিঘ্নে হয় সেজন্য ভবনটির সামনের রাস্তা দুই দিক দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে রাজউকের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও র‌্যাবের টিমও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ শেষে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভবনের কোন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে মূলত তার সন্ধানেই আমরা আলামত সংগ্রহের কাজ করছি। বিস্ফোরণে ভবনের কোন জায়গায় সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, সেখানের ধোঁয়া বা বিভিন্ন আলামত খুঁজে বের করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবনের কিছু জায়গা আমরা সোয়াপিং করেছি। দেখা গেছে, ভবনের গ্রিল ধরে নাড়ালে সেটি নড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দেওয়ালও নড়তে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে এখনো কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য বা মিথেন গ্যাস রয়েছে কি না তা জানতেও আলামত নেয়া হয়েছে।’

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সংগ্রহ করা আলামতগুলো পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। সেগুলো বিধি মোতাবেক পরীক্ষা করে দেখা হবে। পরে বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত জানাতে পারবেন। কিন্তু যেখান থেকে মূল বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটেছে, সেই জায়গাতে আমরা এখনো যেতে পারিনি।’

ভবনটির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে রাজউক গঠিত কারিগরি কমিটির সদস্য রংগন মণ্ডল বলেন, ‘আমরা মূলত এখন ভবনটিতে প্রোপিং করার চেষ্টা করছি। এর পর আমরা সার্ভে করব ভবনটি রেট্রোফিটিং করা যায় কি না। রেট্রোফিটিং হচ্ছে নির্মিত স্ট্রাকচারের ক্যাপাসিটি বাড়ানো। সাধারণত পুরোনো স্ট্রাকচার যা লোড নিতে পারছে না বা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এ রকম ভবনকে রেট্রোফিটিং করা হয়। তবে এই সার্ভে করতে আমাদের দেড় মাস সময় লাগবে।’ ভবনের সামনের রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজউকের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রোপিংয়ের পর দেখব ভবনটি কতটুকু স্টেবল হয়েছে। এছাড়া আরও দেখব ভবনটি কতটুকু কম্পন সহ্য করতে পারছে। এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’


আরো পড়ুন