• বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

সিএনজি চালক হত্যাকারী বাঘাসহ এজাহারভুক্ত ০৩ জন আসামীকে গ্রেফতার

/ ১৪ বার পঠিত
আপডেট: শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৩

গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ০১:০০ ঘটিকায় সিএনজি চালক আলী হোসেন (৬০) যাত্রী পরিবহনের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলার মোক্তারপুর ব্রীজ এলাকায় অবস্থান করছিল। উক্ত সময় অজ্ঞাতনামা ০৪ জন ছিনতাইকারী তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রীবেশে রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানাধীন মাতুয়াইল সাদ্দাম মার্কেটের সামনে যাওয়ার জন্য কৌশলে ৩৫০/- টাকায় সিএনজিটি ভাড়া করে।

উক্ত সিএনজি চালক আলী হোসেন তাদেরে কথামত সিএনজি চালিয়ে মাতুয়াইল যাওয়ার পথে রাত আনুমানিক ০২:০০ ঘটিকায় রাজধানী ঢাকার ডেমরা থানাধীন সাইনবোর্ড মদিনা চত্তর এলাকায় পৌছালে উক্ত ছিনতাইকারীরা সিএনজি চালক আলী হোনেস’কে এলোপাথারী মারধর শুরু করে। অতঃপর সিএনজি চালকের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারীরা সিএনজি চালক আলী হোসেন’কে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আল আমিন নামের একজন ছিনতাইকারী স্থানীয়দের হাতে আটক হয় এবং অন্য ছিনতাইকারীরা সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনাটি জানতে পেরে ডেমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটককৃত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে এবং মৃত আলী হোসেনের লাশ সুরতহাল প্রস্তুতপূর্বক ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। উক্ত ঘটনায় মৃত আলী হোসেনের ছেলে আবু ইউসুফ (২০) বাদী হয়ে একটি দস্যুতাসহ হত্যা মামলা রুজু করেন। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর হতে র‍্যাব বর্ণিত ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতারকৃত আল আমিন এর তথ্যমতে র‍্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল র‍্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় অদ্য ২১ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাতে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনির আখড়া এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে উক্ত সিএনজি ছিনতাই ও সিএনজি চালককে হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ১। নুর হোসেন- বাঘা (৪৩) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত বাঘা এর দেয়া তথ্য মতে উক্ত আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানাধীন তারাবো এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলার অপর ০২ আসামী ২। লিংচাঁন-নীলচাঁন মিয়া (৩৫) ও ৩। মোঃ আঃ মান্নান @ মন্নান (৩৫)’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এসময় তাদের নিকট হতে দস্যুতা ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত ০২টি সুইজ গিয়ার চাকু ও টাই ক্যাবল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা উক্ত ঘটনার সাথে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, তারা সিএনজি ও অটোরিক্সা ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বেশ কিছুদিন যাবৎ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিক্সা ও সিএনজি ছিনতাই করে আসছিল। এই চক্রটি রাতের বেলায় বয়স্ক ও দুর্বল সিএনজি/অটোরিক্সা চালকদের টার্গেট করে তাদের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেত। সেখানে নিয়ে সিএনজি/অটোরিক্সা চালক’কে মারধর প্রয়োজনে হত্যা করে সিএনজি ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যেত। এছাড়া তারা এই মাসে ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ এলাকা হতে একাধিক সিএনজি ছিনতাই করেছিল বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত অন্যতম আসামী নুর হোসেন – বাঘা মুন্সীগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। সে অন্য পেশার আড়ালে বেশ কিছুদিন যাবৎ সিএনজি ছিনতাইসহ বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসীমূলক কার্যক্রম করে আসাছিল। সে গত ১৯ জানুয়ারী ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাতে সিএনজি ছিনতাই ও চালক’কে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। সে টাই ক্যাবল দিয়ে সিএনজি চালক আলী হোসেনের হাত বেঁধে রেখেছিল বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত লিংচাঁন – নীলচাঁন মিয়া (৩৫) রাজধানীর কদমতলী এলাকার ভাড়াটিয়া। সে অন্য পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ ছিনতাই করে আসছিল। উল্লেখিত তারিখে সে ভিকটিম আলী হোসেন এর পা বেঁধে রেখেছিল বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত মোঃ আঃ মান্নান – মন্নান নারায়নগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। সে উক্ত সিএনজি চালকে মারধর করে তার হাত থেকে চাবী ছিনিয়ে নেয়। জনগনের ধাওয়া খেয়ে বাঘা ও মান্নান’কে নিয়ে উক্ত সিএনজি চালিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়।

জনগনের হাতে আটক হওয়া আল-আমিন সিএনজি চালক আলী হোসেন সিএনজিটি দিতে জোর জবরদস্তি করলে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে এবং একপর্যায়ে ভিকটিমের গলাটিপে হত্যা করেছিল বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আরো পড়ুন