• মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১১:২৮ অপরাহ্ন




ব্যাংকিং খাত খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে : টিআইবি

/ ৩৪ বার পঠিত
আপডেট: সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, ইসলামী ব্যাংকসহ তিনটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ভুয়া ঠিকানা ও অস্তিত্বহীন কোম্পানির বিপরীতে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে ব্যাংকিং খাত খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় টিআইবি।

বিবৃতিতে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সংকট প্রতিরোধে ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতে ‘প্রকৃত মালিকানার স্বচ্ছতা’ আইন প্রণয়ন করে আর্থিক লেনদেনের নজরদারির জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। খাদের কিনার থেকে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে উদ্ধার করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল প্রণয়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। যা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক। একজন সাধারণ গ্রাহক ব্যাংক থেকে ন্যূনতম অংকের ঋণ নিতে অনেক কাগজপত্র দিতে হয়। সেখানে কীভাবে ভুয়া কিংবা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ তুলে নেওয়া হলো?

বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, মোট খেলাপি ঋণ গত ১৪ বছরে প্রায় ছয় গুণ হয়েছে। সংজ্ঞা পরিবর্তন কিংবা পুনঃতফসিল করেও খেলাপি ঋণ আদায় করা যাচ্ছে না। এমন সময় আগ্রাসী ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ বিপুল পরিমাণ অর্থের সুবিধাভোগী কারা? দেশবাসীর এ প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার আছে। ব্যাপক আলোচিত বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি ও পি কে হালদারের জালিয়াতির মাধ্যমে লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের পরও কেনো শিক্ষা নেওয়া হলো না। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে বিদেশে অর্থ পাচারের নির্ভরযোগ্য অনেক তথ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশিত হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ পাচারের ঘটনায়ও ঘটছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, পণ্য আমদানিতে ২০ থেকে ২০০ ভাগ পর্যন্ত বাড়তি দাম দেখানোর শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বাণিজ্যের আড়ালে গড়ে পাচার হয় ৮২৭ কোটি মার্কিন ডলার। অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ ঋণের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব অর্থ বিদেশে পাচার হতে না পারে, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।





আরো পড়ুন