• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০১:০০ পূর্বাহ্ন




তাজরীন ট্র্যাজেডি মামলা, ১০ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত

/ ৮ বার পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২
তাজরীন ফ্যাশনস গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

রাজধানী আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনস গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক দশক পূর্ণ হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর)। দীর্ঘ এ সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণের গণ্ডিই পেড়োতে পারেনি বিচারকাজ। এখন পর্যন্ত এই মামলার একশো চারজন সাক্ষীর মধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র এগারজন। কবে নাগাদ এই বিচারকাজ শেষ হবে তা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিংবা আসামীপক্ষ, কেউই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।

দেশের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম তাজরীন গামেন্টসের ঘটনা। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সংঘটিত এ অগ্নিকাণ্ডে ১১৭ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত দুইশো জন। অগ্নিকাণ্ডের পরদিন অর্থ্যাৎ ২৫ নভেম্বর আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এরপর পেড়িয়ে গেছে দীর্ঘ ১০ বছর, শেষ হয়নি বিচার কাজ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সাক্ষীরা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে। তারা বলতে পারছেন না মামলাটি শেষ করতে আর কত দিন লাগবে।

বর্তমানে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এ মামলাটি বিচারাধীর আছে। সবশেষ গত ৪ অক্টোবর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকলেও সেদিন সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পরবর্তী তারিখ ১ জানুয়ারি ধার্য করেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর আদালতে তাজরীন ফ্যাশনস-এর এমডি দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, গত সাত বছরে এ মামলায় ২০১৬ সালে পাঁচজন, ২০১৭ সালে দুজন, ২০১৯ ও ২০২১ সালে একজন করে মোট দুজন এবং ২০২২ সালে দুজনসহ সর্বমোট ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২০ সালে কোনো সাক্ষী সাক্ষ্য দেননি।

সাক্ষী দেওয়ার জন্য সমন পাঠানো হলেও সাক্ষীরা কেউ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে আসছে না। এ কারণে ইতিমধ্যে ৬ পুলিশসহ ২৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যে ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তারা হলেন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক এস.এম. বদরুল আলম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা কামাল, আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান, সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদুর রহমান, উপ-পরিদর্শক মো. রবিউল আলম ও এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম।

পরোয়ানা জারি হওয়া অপর ২০ জন হলেন, আশুলিয়ার বাসিন্দা মো. মাঞ্জুর আলম, তাজরীন ফ্যাশনের কর্মচারী চায়না বেগম, ধলা মিয়া, আকলিমা, রাবেয়া খানম, আরিফা, নূর জাহান, মো. আকাশ, মো. শাহীন, শামীম, মো. মোক্তার, মো. আলম, মোছা. পারভীন, মোর্শেদা বেগম, শ্যামলী আক্তার, মমিনুর রহমান, আলেনুর, রমেসা বেগম, আরফুজা বেগম ও জব্দ তালিকার সাক্ষী মো. আলী হোসেন।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ.কে.এম শাহনেওয়াজ বলেন, আলোচিত এ মামলায় ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে সবশেষ অগ্রগতি অনুযায়ী মাত্র ১১ জন সাকবষ দিয়েছেন। যে ছয় পুলিশ সদস্যসহ ২৬ জন সাক্ষীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হননি। তাদের গ্রেপ্তার করে সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত করা হচ্ছে না। তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন সাড়া দেন না। সাক্ষ্য দিতে তাদের কোনো আগ্রহও দেখা যায় না।

বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সাত বছর পেড়িয়ে গেরেও কাঙ্খিত কোনো অগ্রগতি হয়নি এ মামলায়। এ অবস্থায় আসামীপক্ষ চাইছেন মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি হোক।

এ ব্যাপারে আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম গোলাম গাউস বলেন, মামলার অধিকাংশ সাক্ষীই নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হচ্ছেন না। একারণে বিচারকাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা চাই মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়।

এ অবস্থায় মামলা নিষ্পত্তিতে সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ.কে.এম. শাহ নেওয়াজ বলেন, মামলাটি নিষ্পত্তি করতে সময়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। সাক্ষ্যগ্রহণের দিন সাক্ষী যদি আসে তবে ছয় মাসে বিচারকাজ শেষ করে দেওয়া যাবে। না আসলে আরও দশ বছর পেড়িয়ে গেলেও সম্ভব না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের আদালতে হাজির করে যত দ্রুত সম্ভব মামলাটির বিচার শেষ করার চেষ্টা করছি।





আরো পড়ুন