• বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন




তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

/ ১৭ বার পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২
মতিঝিল থানা

র‍্যাব-ডিবি-পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার ভুয়া নয়, প্রকৃত পুলিশের তিন কনস্টেবল খোদ রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে।মতিঝিলের একটি মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় পুলিশের তিন কনস্টেবল নিজেদেরকে সিআইডি পরিচয় দিয়ে ওই টাকাগুলো ছিনতাই করে।


ঘটনাটি গত ১২ অক্টোবর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটে। জানা গেছে, সে সময় মতিঝিল থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে রাজউক এ্যাভিনিউতে অবস্থিত হেরিটেজ অ্যাসেটস কোম্পানির কার্যালয়ের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন তিন কর্মচারী। এ সময় অফিসের নিচে আসার পরপরই কনস্টেবল কামরুল ইসলাম (৩৫), রাফিজ খান (২৬) ও তুষার ইমরান (৩১) তাদের সিআইডি পরিচয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে রিকশায় তুলে নেয়।

এরপর প্রথমে শাপলা চত্বরের দিকে এবং পরে খিলগাঁওয়ের দিকে নিয়ে যায়।সেখানে তাদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়।

এই ঘটনায় সেদিন মতিঝিল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন- হেরিটেজ অ্যাসেটস কোম্পানির ম্যানেজার। মামলার পর ঘটনা তদন্তে মাঠে নামে থানা পুলিশ ।তদন্তের এক পর্যায়ে প্রায় ৫০টি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই তিন পুলিশ সদস্যের ছিনতাই কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।পরে অভিযান চালিয়ে ২১ অক্টোবর তাদের গ্রেফতার করে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

রিমান্ডে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকারও করেছে তারা। শুধু এই ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়, ক্যাসিনো খেলা এবং মাদক ও নারীতে আসক্ত হওয়ায় টাকার অভাবে মাঝে মধ্যেই তারা এমন ছিনতাই করতেন বলেও জানিয়েছেন রিমান্ডে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারের পর ওই তিন পুলিশ সদস্য আদালতের নির্দেশে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে শুধু এই পুলিশ সদস্যরাই নয়, যে কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান।

নিরাপত্তা দিতে গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিছু পুলিশ। এতে কে পুলিশ আর কে ছিনতাইকারী, তা বুঝা কঠিন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।এমনটাই মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।





আরো পড়ুন