• বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন




রংপুরে বিএনপির সমাবেশ শনিবার, আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা

/ ১৩ বার পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২
রংপুরে বিএনপির সমাবেশ

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার রংপুরে বিএনপির সমাবেশ। কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে দলটি। শেষ মুহূর্তে চলছে মঞ্চ প্রস্তুতের তোড়জোড়। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ ও খুলনার মতো দুই দিন পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতি।

পরিবহন বন্ধের বিষয়টি ধারণা করছিল বিএনপি। ফলে সব ধরনের বাধা উপক্ষো করে বৃহস্পতিবার থেকে রংপুরে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ উপলক্ষে আসা দলটির নেতাকর্মীরা নগরীর আবাসিক হোটেল, ছাত্রবাস, আত্মীয় স্বজন ছাড়াও নগরীর বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থান নিচ্ছেন। আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যেই সমাবেশের ৩০ ভাগ লোক রংপুরে ঢুকবে বলে জানিয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতাদের

এদিকে রংপুর-কুড়িগ্রাম সড়কে প্রশাসনিক হয়রানির প্রতিবাদ ও মহাসড়কে নছিমন-করিমনসহ অবৈধ যানচলাচল বন্ধে ৩৬ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে মোটর মালিক সমিতি। গণসমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেই সরকারের মদদে পরিবহন ধর্মঘট হয়েছে বলে দাবি বিএনপির।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান নিপ্পন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক হয়রানি এবং মহাসড়কে নছিমন করিমন বন্ধের দাবিতে শুক্রবার ( ২৮ অক্টোবর) সকাল ছয়টা থেকে শনিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। মোটর, ট্রাক মালিক, ট্রাক্টর, কার, মাইক্রোবাস মালিক সমিতি যৌথসভার মাধ্যমে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে গণসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, পরিবহন ধর্মঘট হবে এটা আগেই ধারণা করেছিলাম। সরকারের নীতি নির্ধারকরা তিনটি গণসমাবেশ দেখেই ধর্মঘট দিয়েছে। আমরা মনে করি এই পরিবহন ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে রাজপথ সরকার নিজেই বিএনপি এবং জনগণের দখলে দিয়ে দিল। এখন নির্বিঘ্নে রাজপথ দিয়ে মিছিল নিয়ে আসতে পারবে।

বাইসাইকেল, রিকশা, মোটরসাইকেল, হেঁটে এবং নদ-নদী সাঁতরিয়ে লোকজন যানজটবিহীন সমাবেশে যোগ দেবেন বলেও দাবি করেন সংসদ সদস্য।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশের প্রস্তুতি কার্যক্রম সরেজমিনে দেখে যান সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ এমপি, সমন্বয়ক ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।

আহবায়ক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের সকল প্রস্তুতি শেষ। মাঠ নিয়ে তামাশার কারণে মঞ্চ তৈরিতে একটু দেরি হয়েছে। তবুও আমরা আশাকরি, কাল দুপুরের মধ্যেই মঞ্চসহ মাঠ সমাবেশের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। যারা আসবেন তারা মাঠেই অবস্থান নেবেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার পুলিশ দিয়ে বিভিন্নভাবে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে। মামলা, হামলা, গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে। বাজারে বাজারে, মোড়ে মোড়ে আতংক ছড়াচ্ছে। এই আতঙ্কই সরকারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত আতঙ্ক তৈরি করা হবে, তত লোকের উপস্থিতি বাড়বে।

এদিকে সমাবেশ প্রস্তুত কমিটির সমন্বয়ক এবং বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু জানান, প্রশাসনের অনুমতির পর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে মঞ্চ তৈরিসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ চলছে। সমাবেশ উপলক্ষে ২০০ স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। এছাড়া আমরা একমাস ধরে রংপুর বিভাগের একটি সিটি করপোরেশন, আট জেলা, ৫৮টি উপজেলা ৩৪টি পৌরসভা এবং ৫৩২টি ইউনিয়নে সম্মেলন করেছি। সমাবেশস্থল ছাপিয়ে মানুষের স্রোত রংপুর মহানগরীর প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মাঠসহ অলিগলি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাবে।

গণসমাবেশের সভাপতি রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু জানান, পুলিশ চীনের প্রাচীর দিয়েও জনস্রোত আটকাতে পারবে না। শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষই বেশি আসবেন সমাবেশে।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনা নুরে আলম মিনা জানান, বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সমাবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।





আরো পড়ুন