• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
171764904_843966756543169_3638091190458102178_n

মাথায় শিং আকৃতির টিউমার, ৫ লাখ টাকা হলেই বাঁচবে শিশু শরিফা!

/ ২২৩ বার পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক:- বয়স মাত্র ৮ বছর। এই বয়সে বিরল রোগে আক্রান্ত শরিফা খাতুন। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ৫নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের হরিণা মাঝের পাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম ও ফাহিমা খাতুনের একমাত্র কন্যা শরিফা। আশরাফুল পেশায় ভ্যানচালক ও দিনমজুর।

শরিফার জন্মের পর মাথায় গোটা গোটা লাল দাগ ছিল। মনে হচ্ছিল জন্মদাগ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাল ধীরে ধীরে দাগের স্থান থেকে হাড় বাড়তে থাকে। বর্তমানে যেটি বৃহৎ আকার ধারণ করেছে।

রোগটির কারণে তার দুই চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাথার পেছনের অংশের টিউমার ২টি শিংয়ের আকার ধারণ করেছে। মাথার উপরের অংশে খুলি এবং জয়েন্টে কোনো ও হাড় নেই।

টিউমার আক্রান্ত শরিফার পিতা আশরাফুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ২০১১ সালের জুন মাসের ৩০ তারিখ আশরাফুল ইসলাম ও ফাহিমা খাতুনের কোল আলো করে জন্ম নেয় শরিফা। পরিবারিক অসচ্ছলতা সত্বেও মেয়ের চিকিৎসা অব্যাহত রাখেন পিতা-মাতা, স্বজনরা। কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তারপর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরবর্তীতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজেও চিকিৎসা চলে তার। তেমন উন্নতি না হওয়ায় খুলনা খ্রিস্টান মিশন, শিরোমণি চক্ষু হাসপাতাল, যশোর কুইন্স হাসপাতাল, যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে ও তার শারীরিক কোনো উন্নতি হয়নি।

তিনি জানান, শরিফা তাদের একমাত্র সন্তান। দ্বিতীয়বার আরও একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নিলেও জন্মের কিছুদিন পর মেয়েটি মারা যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজের জমানো যা টাকা পয়সা ছিল সব হারিয়ে সর্বশান্ত শরিফার পরিবার। এমন বিরল আকৃতির টিউমার অপারেশন করতে ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। পাশাপাশি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দ্রুত অপারেশন করাতে না পারলে শরিফার জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘টাকার অভাবে ঢাকায় অবস্থান করে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী হওয়াতে মহিলা ইউপি সদস্য সেলিনা খাতুনের সহায়তায় কেড়াগাছি কেড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল শরিফাকে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছে। ভাতার টাকা দিয়ে আপাতত তার ওষুধ কেনা হচ্ছে। আর্থিক অনটনের কারণে ডাক্তাররা যখন ঢাকায় যেতে বলেন তখন বাড়ি থেকে ঢাকায় যাতায়াত করে থাকি।

মেয়ের চিকিৎসা অব্যাহত রেখে নিজের মেয়েকে সুস্থ করতে মরিয়া সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন শরিফার পিতা মাতা। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী শরীফা, স্থানীয় হরিণা গোয়ালচাতর মসজিদ ভিত্তিক মাদ্রাসায় পড়ালেখা করত গত ২ বছর ধরে।

মসজিদের শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, শরিফা আগে নিয়মিত মক্তবে পড়তে আসতো। অন্য ১০টা স্বাভাবিক ছাত্র-ছাত্রীর মতো তার স্মৃতিশক্তি নেই। তবে সে নিয়মিত মক্তবে পড়তে আসতো। গত কোরবানি ঈদের আগে থেকে সে টিউমার নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাতক্ষীরার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে নেয় তার দরিদ্র ভ্যানচালক বাবা। কিন্ত মাথার অপারেশনের জন্য ৫ লাখ টাকা দরকার বলে তারা মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। বর্তমানে শরিফা শয্যাগত।

এ বিষয়ে কেড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল জানান, কিছুদিন পূর্বে বিরল রোগের আক্রান্ত প্রতিবন্ধী শিশু শরীফার ব্যাপারে আমাকে অবহিত করেন মহিলা ইউপি সদস্য সেলিনা খাতুন, খবরটি জানার পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শরিফার নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদান করেছি। এছাড়া এলাকার বিত্তশালী অনেকের কাছে শরীফাকে আর্থিক সহযোগিতার ও সবার কাছে দোয়া চেয়ে জন্য অনুরোধ করেছি।

অসুস্থ শরিফার পিতা শরীফুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক। মেয়ের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় বিপুল অঙ্কের টাকা তার পক্ষে বহন করা অসম্ভব বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে কলারোয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এক্স-রে রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে অসুস্থ শরিফার মাথার টিউমারটি খুব বিরল আকৃতির। মাথার উপরের অংশে খুলি এবং জয়েন্টে কোনো ও হাড় নেই। এ ধরনের অপারেশন ব্যয়বহুল হয়।


আরো পড়ুন