• শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৯ অপরাহ্ন




তিতির পাখি পালনে প্রবাসী রফিকুলের বাজিমাত

/ ১৬ বার পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০২২
02

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
তিতির পাখি একটি শোভাবর্ধক পাখি। এ পাখি দেশে বিদেশি গিনি ফাউল ও চিনা মুরগি নামে পরিচিত।মূলত সৌখিন লোকেরা খাঁচায় তিতির পালন করে। তবে এবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাণিজ্যিকভাবে ঘরে উঠেছে তিতির খামার। এতে তিতির পাখির ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করে মাসে আয় তিন লাখ টাকা।

উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আকন্দ ভিটা কৈতরবাড়ী গ্রামের রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাস জীবন অতিবাহিত করেছেন। তবে ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি সেখানে। দেশে ফিরেই পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় তার প্রথম বছরেই বাজিমাত। রফিকুল ইসলাম কষ্টের সময় পার করে দেশে ফিরে বাড়ির চারপাশে অকৃষি অনাবাদি উর্বর মাটিতে গড়ে তুলেন মাল্টা, লেবু, পেপের বাগান। আত্মপ্রত্যয়ী ও পরিশ্রমী হলে যে, সফলতা মানুষের দ্বারপ্রান্তে এসে কড়া নাড়ে তা প্রমাণ করেছেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন ও উৎপাদনশীল এমনই একটি ফলজ বাগান ভাগ্যের চাকা ঘুরে জীবনে সফলতা খুঁজে পান তিনি। তিনি ফল বিক্রি করে প্রতি বছর আয় করেন ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। এই ফলজ বাগানের ভিতরেই গড়ে তুলেছেন তিতির খামার।

জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ০৭ টি খামারে প্রায় ৭শত বড় তিতির পালন করছেন। এছাড়াও ছোট-মাঝারী হাজারের উপর এখন তার তিতির সংখ্যা। বছর আগে ২০২০ সালে ৩০০টি তিতির পাখি নিয়ে শুরু করেন খামার। প্রথম বছরেই তিনি তিতির খামার থেকে ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করে সফলতা অর্জন করেন।এদের থেকে প্রতিদিন ডিম সংগ্রহ করেন। মাসে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজারের মত ডিম উৎপাদন হয়।

খামারী রফিক এ ডিম থেকে ইনকিবেটরের মাধ্যমে মাসে ৩ হাজার বাচ্চা উৎপাদন করেন। তিনি একদিনের বাচ্চা প্রতিপিস একশত টাকা দরে ও ডিম প্রতি পিস পঞ্চাশ টাকা দরে বিক্রি করেন। তার পাশাপাশি বড় তিতির পাখিগুলো একেকটা বিক্রি করেন ১ হাজার টাকা ধরে। গত এক বছরে তিতির পাখি বিক্রি করে তিনি বাজিমাত করেছেন। এ পাখি বছরের বেশীর ভাগ সময় ডিম দিয়ে থাকে।

তিতির পাখির খামারী রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও জীবিকা নির্বাহের জন্য ১৮ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন পাড় করি। আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরেনি। এরপর দেশে ফিরে বাড়ির পাশে জমিতে মাল্টা, লেবু, পেপের বাগান করে ভালোই লাভভান হই। পরে অন্য একজনের সাথে পরামর্শ করে এ উপজেলায় আমিই প্রথম তিতির পাখির খামার গড়ে তুলি। প্রথম বছরই ডিম, বাচ্চা উৎপাদন করে ভালই সাড়া পাই। এ খামার এখন আরও বড় করার চেষ্টা করছি। আমার খামারে বিশ হাজার তিতির পাখি লালন পালনের পরিকল্পনা আছে।
খামারী রফিক আরও বলেন, অন্যান্য পাখির থেকে তিতির পাখির রোগ বালাই কম। তিতির পাখি খাবার হিসেবে চাল, সবুজ ঘাঁস, কুড়া, লতাপাতা, পোকামাকড় ইত্যাদি খায়। এতে লালন পালনে খরচ অনেক কম। অন্যান্য পাখির থেকে তিতির পাখির ডিম, মাংস অনেক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

স্থানীয় আশরাফ সরকার বলেন, রফিক ভাই তিতির পাখি পালনে স্বাবলম্বী। প্রথম বছরেই বাজিমাত।পাশাপাশি এলাকায় প্রথম মাল্টা, লেবু, পেঁপেঁর চাষ শুরু করেন। সে প্রথমেই সফলতা অর্জন করেন। তার দেখাদেখি আমিসহ অনেকেই মাল্টা বাগান করে ভাগ্য বদল করেছি। তিনি আমাদের এলাকার আইডল। তার পরামর্শে অনেকেই এ পেশায় আসতে সাহস করছে।

উপজেলা ভেটেনারী ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলায় রফিকুল ইসলামই প্রথম তিতির খামার গড়ে তুলেছেন। তিতির পাখির খামার বেশ ভাল লাভজনক। বাংলাদেশে তিতির পাখির বেশ চাহিদা রয়েছে। এ পাখির তেমন রোগবালাই হয় না। খাবারের খরচও কম। সবুজ ঘাঁস এদের প্রধান খাবার। অন্য অন্য পাখির থেকে এর মাংস, ডিম অনেক সুস্বাদু। এর ডিম, মাংসের দামও অনেক বেশী। প্রাণী সম্পদ অফিস তার খামারের সব সময় খোঁজ খবর রাখছে। তার যেকোন প্রয়োজনে আমরা সার্বিক সহযোগীতা করবো। আমরা চাই তার দেখাদেখি আরও নতুন উদ্যোক্তা তিতির পালনে আগ্রহী হউক।





আরো পড়ুন