• মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:১৭ অপরাহ্ন




চাঞ্চল্যকর মতিন হত্যা মামলার আসামীদের বাড়ি ঘর ভাংচুর লুটপাট ৫০ বিঘা ফসলি জমি নষ্ট

/ ২১ বার পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
চাঞ্চল্যকর মতিন হত্যা মামলার আসামীদের বাড়ি ঘর ভাংচুর লুটপাট ৫০ বিঘা ফসলি জমি নষ্ট

পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনার সাঁথিয়ায় চাঞ্চল্যকর মতিন হত্যায় মিথ্যা নাটক সাজিয়ে নিরহদের আসামী দিয়ে তাদের বাড়িঘরে লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে সাবেক চেয়ারম্যান হারুন ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে। কাটতে না দেয়ায় নষ্ট করা হয়েছে প্রায় ৫০ বিঘা ফসলি জমির পাট। কেটে নেয়া হয়েছে প্রায় ৫বিঘা ফসলি জমি ! রাতে আঁধারে খোলা থেকে তুলে নিয়ে গেছে ২৮ বস্তা ধান । ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে।


জানা গেছে, গত ৪ জুন (২০২২ ইং) শনিবার বিকেলে জুয়েলের চাচাতো ভাই মতিনকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত পৌনে ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে পাবনার সাঁথিয়া পৌর সদরের পুটিপাড়া গ্রামের ক্যানেলের পাশে আঃ মতিন (৫০) নামের ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত মতিন ওই গ্রামের মহির উদ্দিন ওরফে মহেরের ছেলে । ৫ জুন রোববার হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নাগডেমড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজকে প্রধান করে ১৯ জন নামীয় ও অজ্ঞাত কয়েকজন আসামী করে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ওই দিন দুুপুরেই নাগডেমড়া ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজসহ ২জন এজাহার ভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এ ধিকে হত্যা মামলার তদন্তের কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পরে মামলাটি গত জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে থানা পুলিশ থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার সুত্র ধরে তদন্তে নামে সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) পায়েল হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম। এরই মধ্যে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় ৪ জনকে আটক করেছে সিআইডি পুলিশ।

আটককৃতরা হলো, মটকা গ্রামের বেলাল শেখ, ছেছানিয়া গ্রামের আনিস, নিহত মতিনের সঙ্গে থাকা মামলার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ও মামলার বাদী হারুন অর রশিদের ছোট ভাই জুয়েল, বৈরাগী সোনাতলা গ্রামের হযরতের ছেলে সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়। ৪ জনকে গ্রেফতারের পর মামলার রহস্য বুঝতে পেরে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গেল সোমবার মামলার বাদী সাবেক চেয়ারম্যান হারুনকে ২নং আসামী এবং খুনের প্রত্যক্ষদর্শী তার সহোদর ভাই জুয়েলকে প্রধান আসামী করে পাবনা আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বোন বুলবুলি খাতুন।

এ ছাড়াও অজ্ঞাত ১০/১৫জন রয়েছে যেখানে মামলার বাদীই হলেন ২ নং আসামী। যার পিটিশন নং ১৪৯/২০২২ইং। বর্তমানে মামলাটি সিআইডতে তদন্তাধীন রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইনস্পেক্টর নিঃ পায়েল হোসেন। তিনি বলেন, হত্যা কান্ডের সাথে জুয়েল,বাদী হারুনসহ আরও ৭/৮জন রয়েছে। যেহেতু তদন্ত এখনও চলমান সেহেতু বেশী কিছু বলা যাবে না। তবে যারাই জড়িত থাকুক সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এদিকে মতিন হত্যার ঘটনায় মিথ্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে জানতে পেরে মামলার আসামীগণ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। বাড়ি এসে তারা সাংবাদিকদের জানান, তারা পলাতক থাকায় নিশংস এ হত্যাকান্ডের মিথ্যা মামলার বাদী হারুন অর রশিদ ও তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


মিথ্যা মামলার আসামী সোনাতলা গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন ও আলহাজ বলেন, আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি থেকে বিতারিত করে হারুন ও তার বাহিনী দিয়ে বাড়ি ঘর লুটপাট করেছে এমন কি জমিতে যেতে বাধা দেয়ায় আমাদের ১৪ বিঘা জমির পাট ক্ষেতেই পচে পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। কেটে নিয়েছে কয়েক বিঘা জমির নেভিয়ার ঘাস। এতে আমাদের প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে মিথ্যা মামলার বাদী সাবেক চেয়ারম্যান হারুন ও তার বাহিনী।


একই গ্রামের মিথ্যা মামলার আসামী কামরুজ্জামান রতনের স্ত্রী বুলবুলি ও আবু সাঈদের স্ত্রী সহিমন জানান, হত্যাকান্ডের পর বাদী হারুনের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র ঘরের দরজা ভেঙে নিয়ে যায়। আমরা ভয়ে অন্য একটি ঘরে গিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে কোনভাবে নিরাপদে অবস্থান করি । সেদিন তাদের এতই তান্ডব ছিল যে তাদের ভয়ে আমাদের চিৎকারে আশপাশের কেউ কোন সাড়া দেয়নি। কৃষক মনসুর আলী জানান, হত্যাকান্ডের পর তার ২টা গরু নিয়ে গেছে আজও তার হদিস মেলেনি।এলাকাবাসী জানান, অনেকেই গরু লুট হওয়ার ভয়ে পুলিশের সহযোগীতায় অন্যত্র সরিয়ে তা থেকে রক্ষা পায়। ওই মিথ্যা মামলার প্রধান আসামী বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহামান হাফিজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাকেও যে মিথ্যা মামলা দিয়ে ২ মাস ২৫দিন জেল হাজতে খাটিয়েছে। আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি।

আমি আইনের মাধ্যমে তার শাস্তি চাই। আর আমার এলাকার নিরিহ জনগণকে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে এর জন্যও তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।


উল্লেখ্য, জানা গেছে, গত ৪ জুন শনিবার (২০২২ ই্ং) রাত সাড়ে আটটার দিকে পাবনার সাঁথিয়া পৌর সদরের পুটিপাড়া গ্রামের ক্যানেলের পাশে ওই গ্রামের মহির উদ্দিন ওরফে মহেরের ছেলে আঃ মতিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৫ জুন রোববার সকালে হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে নাগডেমড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজকে প্রধান করে ১৯ জন নামীয় ও অজ্ঞাত কয়েকজন আসামী করে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। সাঁথিয়া থানা পুলিশ ওই দিন দুুপরেই নাগডেমড়া ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজসহ ২জন এজাহারভূক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।





আরো পড়ুন