• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন




ইরানে বিক্ষোভ: নিহত বেড়ে ৭৬

/ ১১ বার পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
ইরানে বিক্ষোভ

পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ১০ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭৬ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আইএইচআর এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল আরাবিয়ার।

সৌদি মালিকানাধী টেলিভিশন চ্যানেলটি জানায়, রোববার সন্ধ্যায় ৫৭ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আইএইচআর। পরদিন সোমবার এ সংখ্যা হালনাগাদ করে ৭৬ জনের তথ্য জানায় সংস্থাটি।

তবে ইরানের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অস্থিরতা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪১। তাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যও রয়েছে।

আইএইচআর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন,‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। ’

নরওয়ে ভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, ইরানের ১৪টি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের মাজানদারানে। সেখানে মারা গেছে ২৫ জন। অন্যদিকে রাজধানী তেহরানে মারা গেছে তিনজন। ’

আইএইচআর জানায়, বিক্ষোভে নিহতদের চুপচাপ রাতে সমাহিত করতে হচ্ছে। অনেক পরিবারকে তাদের স্বজনদের মৃত্যুর কথা প্রচার করলে আইনি অভিযোগের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ’

এ দিকে চলমান বিক্ষোভের মাজানদারানে অন্তত ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ দমাতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি কঠোর হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

চলমান এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত চার শিশু মারা গেছে বলে জানিয়েছে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাদের দাবি, বিক্ষোভ দমাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে।

মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান হেবা মোরায়েফ বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান মৃতের সংখ্যা একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ইন্টারনেট বন্ধ মানব জীবনের ওপর কর্তৃপক্ষের আক্রমণ কতটা নির্মম তা বুঝায়। ’

ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

হিজাব না পরার অভিযোগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর আমিনিকে আটক করে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ। আটকের পর পুলিশি হেফাজতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশটিতে কঠোর পোশাকবিধি বাতিল এবং নারীদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।

রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকার সড়কে প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাতেও বিক্ষোভ হয়েছে। তেহরানে বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির পতন চেয়ে স্লোগান দিয়েছেন।





আরো পড়ুন