• মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
171764904_843966756543169_3638091190458102178_n

আগুন লাগার দৃশ্য মোবাইল ফোনে লাইভ করার সময় বিষ্ফোরনের পর থেকে নিখোঁজ কাভার্ড ভ্যানের চালক মাইন উদ্দিনের

মানিক ভূঁইয়া, নোয়াখালী প্রতিনিধি / ৩৫ বার পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২
কাভার্ড ভ্যানের চালক মাইন উদ্দিন

সীতাকুন্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে গত ৪ঠা জুন আগুন লাগার ঘটনার দৃশ্য মোবাইল ফোনে লাইভ করার সময় হঠাৎ বিষ্ফোরনের পর থেকে নিখোঁজ কাভার্ড ভ্যানের চালক মাইন উদ্দিনের খোঁজ নেই দীর্ঘ দুই মাসেও লাশও পায়নি পরিবার। নেয়নি কেউ খবর, খোঁজ মেলেনি মাইন উদিনের, ছেলে খোঁজে বার বার মুচ্ছা যাচ্ছেন পিতা হেমায়েত উদ্দিন, হয়ে পড়ছেন মৃত্যুও পথের যাত্রী।

আগুনে পুড়ে নিহত মাইন উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরনী ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মাইন উদ্দিনকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক। নোয়াখালী প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন, সীতাকুন্ত, চট্রগ্রামসহ প্রশাসনের ধুয়ারে ঘুর ঘুরতে মাইন উদ্দিনের পিতা এখন অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যুর পথের যাত্রী।

একদিকে ছেলে হারা কষ্ট, অন্য দিকে প্রশাসনের দরজা ঘুরে নেই কোন আশ্বাস, অপর দিকে দায় দেনায় হেমায়েত উদ্দিন নিজেই এখন নিখোঁজ হওয়া পথে। পায়নি কোন প্রকার প্রশাসন কিন;বা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা। স্থানীয় ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থাণীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের কেউ দেয়নি তাঁকে কোন প্রকার সাহাষ্য সহযোগিতার আশ্বাস। এ কথা গুলো জানান সিরাজ পুরে গ্রামের মসজিদের ইমাম হাসান সাহেব।

ঢাকা চ্রটগ্রাম রোড়ের কার্ভাড ভ্যানের ড্রাইভার হেমায়েত উদ্দিনের বড় ছেলে মাইন উদ্দিন দীর্ঘ দিন ধরে বাবার সাথে কাভার্ড ভ্যানে চালানো শিখে গত দুই মাস আসে ড্রাইভিং লাইন্সে পেয়ে চট্রগামের আবু তাহের মন্ডলের মালিকানাধীন একটি কার্ভাড ভ্যানে ড্রাইভার হিসেবে যোগ দেয়। গত ৩ জুন শুক্রবার ঢাকা থেকে গামেন্টনের মালামাল নিয়ে সীতাকুন্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আসে এবং মালামাল আনলোড করার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। হঠাৎ ডিপোর ভিতর থেকে আগুন লাগলে সে আগুন লাগার খবর গ্রামের বাড়ীতে মা বাবা বোনদের ফোন দিয়ে জানায় এবং সে ভয়াবহ আগুন লাগার দৃশ্য মোবাইল ফোলে লাইভ করে। এ সময় পরিবারের স্বজনরা তাকে আগুনের কাছ থেকে সরে যেতে বলে। কিছুক্ষণ লাইভ করার পর হঠাৎ তার মোবাইল বিকট আওয়াজে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে আর তার সন্ধান নেই।

ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলে মাইন উদ্দিনের কোন খোঁজ এখনো পাওয়া পরিবার। সন্তানের খোঁজে বাবা মা আতœীয় স্বজনরা ঢাকা সিআইডি ও চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছোটাছুটি করছেন। ইতিমধ্যে তার মরদেহ শনাক্তে পরিবারের কয়েকজন থেকে ডিএন এ নমুনাও তারা দিয়েছেন। কোন শান্তনা মাইন উদ্দিনের পরিবারের কান্না থামাতে পারছে না। পরিবারের স্বজনদের দাবি সবার আদরের মাইন উদ্দিনকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক।

এদিকে অল্প বয়সে বাবার সাথে সংসারের হাল ধরার জন্য প্রথমে কার্ভাড ভ্যানের হেলপার ও পরে ড্রাইভার হিসেবে গাড়ী চালানো দক্ষতা অর্জন । তার স্বপ্ন ছিলো একমাত্র বোনকে বিয়ে দিয়ে তার পর নিজে বিয়ে করবে। কিন্তুু তার অকালে চলে যাওয়াটি পরিবারের স্কজনদের পাশাাপাশি এলাকাবাসীর মনে নিতে পারছেনা। তাই তারা মানববন্ধন করে সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন তার সন্ধানের পাশাপাশি এ বিষ্ফোরেনর সাথে দায়িদের শাস্তিু ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোতে যথাযথ ক্ষতিপুরণ দেয়া।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, মাইন উদ্দিনের মৃত্যুটা একটি র্মমান্ত্রিক ব্যাপার, ঘটনাটিও ট্রাজেডি তাঁর পিতা আবেদনের আলোকে আমি গুরুত্ব সহকারে চট্রগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্ত এখনও কেন খোঁজ পাচ্ছে না এটা নিয়ে আমিও চিন্তিত, তবুও অপেক্ষা করুন।


আরো পড়ুন