• মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
171764904_843966756543169_3638091190458102178_n

মহিবুল্লাহ ও আজিজ্জার নিয়ন্ত্রণে বাকলিয়ার অবৈধ অটোরিক্সার টোকেন বাণিজ্য লাগামহীন..

স্টাফ রিপোর্টার / ৪৮ বার পঠিত
আপডেট: শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২
মহিবুল্লাহ ও আজিজ্জার নিয়ন্ত্রণে বাকলিয়ার অবৈধ অটোরিক্সার টোকেন বাণিজ্য লাগামহীন..

মরছে মানুষ চলছে অটোরিকশা,ক্ষমতার বাহুবলীতা টোকেন বাণিজ্য, চাঁদাবাজ জুয়াটির দাপটে। চট্টগ্রামে ফের ব্যাটারি রিক্সার দাপট : নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আবারো হঠাৎ করে নগরীতে ব্যাটারি রিক্সার চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)’র কড়া নির্দেশনার পরও নগরীর অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চলাচল নিষিদ্ধ এসব ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা।

বর্তমানে কতিপয় কথিত রিকশা মালিক-চালক সমিতির মাধ্যমে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে নগরীর বিভিন্ন অলিগলি এমনকি মূল সড়ক মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ এসব ব্যাটারি চালিত রিক্সা।

নগরীর ইপিজেড, বন্দর, কর্ণফুলী, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও এবং বাকলিয়া থানা এলাকার বিভিন্ন অলিগলি, সড়ক ও মহা সড়কে দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ এসব ব্যাটারি রিক্সা। অনভিজ্ঞ এসব রিকশা চালকের বেশিরভাগেরই দ্রুতগতি সম্পন্ন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ নেই। ছোট ছোট কিশোর কিশোরী তারা চলছে তো চলছে মহামান্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অটো রিক্সা। এছাড়া ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকায় এসব চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে প্রতিনিয়ত, বাড়ছে যানজটও। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের পাশাপাশি অবৈধভাবে বিদ্যুৎ খরচ করে ব্যাটারিচালিত এসব অবৈধ রিকশা নগরীর অলিগলি দাপিয়ে বেড়ালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না নেয়ায় বৈধর চেয়ে অবৈধ রিক্সার আদিক্য দিনদিন বেড়েই চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ আদালতে রিটের দোহাই দিয়ে কতিপয় রিক্সা মালিক সমিতি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে নগরীর অলিগলিতে এসব রিক্সা চলাচল অব্যাহত রেখেছে। অজ্ঞ এসব রিকসা চালকরা প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটিয়ে চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দাদের।

তারা অভিযোগ করে বলেন, অজ্ঞ এসব চালকরা স্বজোরে হর্ণ বাজিয়ে এলাকায় শব্দ দূষনের পাশাপাশি বেপরোয়া গতিতে রিকশা চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনাও ঘটাচ্ছে।

নগরীতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে। বৈদ্যুতিক মোটরচালিত এসব রিকশার প্রতিটির ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিন খরচ হয় ২০ ইউনিট করে বিদ্যুৎ। সে হিসেবে প্রতিদিন খরচ হয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ইউনিট বা কিলোওয়াট (৫০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ। আর বিপুল পরিমাণ এই বিদ্যুতের অনেকটাই অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি পিডিবির কর্মকর্তাদের। এছাড়াও ব্যাটারি রিক্সাকে কেন্দ্র করে টোকেন বানিজ্য, কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্যাডেল চালিত রিক্সা চালক-মালিকরা সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ নিয়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে। যাই হোক ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে অভিযোগও কম নেই।

লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় যখন অস্থির নগরবাসী, তখন বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অনুমোদন ছাড়াই নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব ব্যাটারি চালিত রিকশা। দিনেদিনে এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর ফলে ব্যাটারি রিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুত অপচয় হচ্ছে প্রচুর। এতে লোডশেডিং বাড়ছে ব্যাপক হারে। অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার হারও। ইতঃপূর্বে ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে এ পরিবহন স্বল্প সংখ্যক চলাচল করে আসলেও সম্প্রতি বেড়েছে বহুগুণে। এমনকি এখন পুলিশের সামনে দিয়েই চলছে এ রিকশা। এ অবস্থায় ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে সিএমপি’ এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুতে উৎপাদন ও বণ্টনে ঘাটতি রয়েছে।

তার উপর এভাবে রিকশায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে ঘাটতি বাড়ছে, দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ খেকো দ্রুতগতির এসব ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বন্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নিষিদ্ধ অটো রিক্সা চলছে তো চলছে মরছে মানুষ ঘটছে দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত।


আরো পড়ুন