• শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০৫ অপরাহ্ন
171764904_843966756543169_3638091190458102178_n

ঈশ্বরদী যুবলীগের আহবায়ক হতে চান ১৩ মামলার আসামি!

কামরুল ইসলাম পাবনা প্রতিনিধি / ৫৮ বার পঠিত
আপডেট: শনিবার, ৪ জুন, ২০২২
ঈশ্বরদী যুবলীগের আহবায়ক হতে চান ১৩ মামলার আসামি!

সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পাবনা জেলা যুবলীগ। জমা নেয়া হয়েছে আহ্বায়ক, যুগ্ম-আহবায়ক ও সদস্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত। কমিটি গঠন নিয়ে নেতৃবৃন্দ নানা হিসাব-নিকাশ করছেন। শীর্ষ পদের জন্য এরই মধ্যে অনেকেই তদবির ও দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে পড়া নেতারা পদ পেতে নানান মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন।

জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলার নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান যুবলীগ সভাপতি ও প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে শিরহান শরীফ তমাল ও বর্তমান সাংসদ নুরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাসসহ এক ডজনের বেশি নেতা।

আহবায়ক পদে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসও। যার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা হয়েছে। মামলার বিষয়টি থানা সুত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও বর্তমান সাংসদ নুরজ্জামান বিশ্বাস এবং ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথার বাড়িতে হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঈশ্বরদীর সর্বজন শ্রদ্ধীয় ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম ফকির মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু, পৌর আ.লীগ নেতা করিম মোল্লাসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ওপর ও বাড়িতে হামলার একাধিক অভিযোগও রয়েছে।

হামলার অভিযোগ আছে সাংবাদিকের ওপরও। আলোচিত এই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে যুবলীগ নেতা শাহিন হোসেনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার। এই অভিযোগে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে করে তাকে গ্রেফতার ও তার অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছিলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল। জুবায়ের বিশ্বাস একবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিলেন নিজের স্ত্রীকে গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে ঈশ্বরদীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, উপজেলা আওয়ামী লীগের জঙ্গি-সন্ত্রাস বিরোধী মিছিলে সশস্ত্র হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ও বোমা হামলার অভিযোগ এনে তাকে বহিষ্কার করেছিলেন তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা বলেন, ‘আমরা চাই ঈশ্বরদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা যুবলীগে স্বচ্ছ, মার্জিত, নম্র, ভদ্র, সৎ ও ত্যাগী নেতৃত্ব আসুক।

যিনি সকল বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন। দক্ষ, ত্যাগী ও নবীন-প্রবীন নেতাদের নিয়ে কাজ করবেন। ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করবেন। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে নিজ দলে নেতাদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে সেই সব বির্তকিত ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসলে আবারও উপজেলাতে ত্রাসের রাজস্ত্র কায়েম হতে পারে। হতাশ হবেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতারা। তাই আমরা চাই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ, দক্ষ ও ত্যাগী যে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হোক।

ঈশ্বরদী পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা বলেন, ‘জুবায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সালে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিনেই আমার বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল। যা ক্ষতচিহ্ন এখনও আমার বাড়িতে রয়েছে। ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগের যাকে কান্ডারী বলা হতো সেই রহিম মালিথার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা যুবলীগের য্গ্মু-আহবায়ক শিবলী সাদিক বলেন, ‘অবশ্যই আমরা বিতর্কিত মুক্ত কমিটি করব। এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হবে যারা ঈশ্বরদী যুবলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করবেন। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, বিতর্ক আছে সেই সবগুলোর যদি প্রমাণ পাই তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।এব্যাপারে জুবায়ের বিশ্বাস বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা থাকতেই পারে। সবগুলো মামলাই ষড়যন্ত্রমুলক, এই সব মামলা তৎকালীন ভূমিমন্ত্রীর ক্ষমতায় প্রভাবিত হয়ে করা হয়েছিল। ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ডিলু মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এসব মামলা করা হয়েছে।

একটি ঘটনার সঙ্গেও আমি জড়িত নয়। বর্তমানে ৩টি মামলা রয়েছে, বাকিগুলো শেষ হয়ে গেছে। নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী। আমি পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক-সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে ক্ষমতার দাপটে অনেকেই পদ যান। একজনের বাবা মন্ত্রী ছিল, সেই ক্ষমতায় বলে পদ চান। আরেকজনের বাবা বর্তমান এমপি, বাবা এমপি হওয়ার পরে চাকরি ছেড়ে ঈশ্বরদীতে এসে রাজনীতি শুরু করেছেন আর এখন যুবলীগের নেতা হতে চান! আমি বাপ-দাদার পরিচয়ে পদ চাইনি। নিজের যোগ্যতার বলে পদ চেয়েছি।


আরো পড়ুন