নৌকায় চড়ে বিলের পদ্মফুল সৌন্দর্য উপভোগ করলেন বুড়িচংয়ের ইউএনও

0
24

আব্দুল্লাহ আল মামুন ভূঁইয়া(বাবু)-(কুমিল্লা জেলা থেকে):শরতের ফুল হলেও কুমিল্লার বুড়িচং দক্ষিণগ্রাম (পাইকোটা)তার সৌন্দর্য ও শুভ্রতার প্রতীক নিয়ে হাজির হয় ‘পদ্ম’। প্রকৃতিতে নিজের রূপ বৈচিত্র্য অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে জলাভূমি ও বিলেঝিলে ফুটে থাকা এ জলজ ফুলের রাণী। পদ্ম ফুলের উপস্থিতিতে যেন প্রাণ ফিরেছে গ্রামের শিশুদের উচ্ছল মাখা শৈশবে। জলের উপর বিছানো সবুজ পাতা ভেদ করে হেসে ওঠে লাল-সাদা একেকটি পদ্ম। জলাভূমি ও বিলেঝিলে ফুটে থাকা পদ্মফুল যে কোন মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে অন্যরকম এক অনুভূতি। ভাসমান একেকটি পদ্মের রূপশোভা অভিভূত করে যে কোন বয়সকে। ছবির মতো সাজানো, হৃদয়কাড়া দৃশ্য আটকে রাখতে পারে না দুরন্ত শৈশবকে।

সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন দক্ষিণগ্রাম বিলের মাঝে শতাধিক একর জমিতে দীর্ঘ বছর ধরে প্রকৃতিগতভাবেই পদ্মফুল ফুটে থাকে। এখানে আশেপাশের জমিগুলোতে ধান জন্মালেও পদ্মফুল ফুটে থাকার জমিগুলোতে বারো মাস কোমর অবধি পানি জমে থাকে।
কলের নাঙ্গল কাদায় দেবে যায়,এতে করে কৃষকরা ধান উৎপাদন করতে পারে না।বুুড়িচং সদর থেকে সীমান্তে ধারপ্রন্তে দক্ষিণগ্রাম বিলে সবুজ প্রান্তর আর পদ্ম ফুলের সৌরভ বিমোহিত করে।এখানে এলে বাতাসেও ছুঁয়ে যায় ফুলের ঘ্রাণ। নয়নাভিরাম এমন দৃশ্য গ্রামীণ জীবনে ডেকে আনে একটু প্রশান্তি আর কারো কারো জীবনে পদ্ম নিয়ে জড়িয়ে আছে কতই না স্মৃতি।
এখানে ছুটি দিন সহ প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অাগত অসংখ্য দর্শনার্থী ভীড় জমায়।স্থানীয়দের অভিযোগ যারা দেখতে এসে তারাই ফুল ছিড়ে নিয়ে যায়।যা ফুলের সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে।যদি এখনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয় তাহলে এই বিলটি উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে রূপ নিবে বলে তাদের ধারণা।
এ বিষয়ে কথা হয় বুড়িচং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসানের সাথে।তিনি বলেন,আসলে আমি শুনেছি দক্ষিণ গ্রামের বিলের পতিত জমিতে পদ্মফুল ফুটে।এবং এ বিল নিয়ে মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারও হয়েছে।অসংখ্য দর্শনার্থীও প্রতিদিন আসছে। আমি মোঙ্গলবার দুপুরে ঐ স্থানে সৌন্দর্য উপভোগ করতে যাই,আমারও অনেক ভালো লেগেছে।

এই বিলের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য স্থানীয়দের সহযোগীতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তিনি অারো বলেন যারা ঘুরতে যায়,তারাও যেনো ফুল না ছেড়ে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সাথে ছিলেন, উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাহমিদা অাক্তার ও রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা সহ আরো অনেকে। পানি না থাকায় দিনের পর দিন জৌলুস হারিয়ে ফেলছে গ্রামগঞ্জের বিলঝিল গুলো। তাইতো আগের মতো আর পদ্ম কিংবা শাপলার সৌন্দর্য চোখে পড়ে না।মাঝেমধ্যে পদ্ম কাটার সাথে যুদ্ধ করে পদ্মফুল সংগ্রহের এমন চিত্র সত্যিই মুগ্ধ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here