• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
171764904_843966756543169_3638091190458102178_n

বখাটের উৎপাত থেকে বাঁচতে ভাণ্ডারিয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

/ ২০৭ বার পঠিত
আপডেট: সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মোঃ বাদল পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এক বখাটের উৎপাত সইতে না পেরে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। নিহত রুকাইয়া রুপা (১৫) উপজেলার ভান্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ভান্ডারিয়া শহরের হোটেল ব্যবসায়ী রুহুল মুন্সির মেয়ে।

নিহতের বাবা জানান, বিগত কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত ভান্ডারিয়া গ্রামের মঞ্জু খান এর ছেলে তামিম খান (১৯)। এতে রাজি না হওয়ায় রুপার একটি ছবি এডিট করে তা বিভিন্ন জনের ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেয় তামিম। শুক্রবার বিকেলে এক সহপাঠীর সাথে প্রাইভেট শেষে বাসায় ফেরার পথে পুনরায় পথ আটকে রুপাকে বিরক্ত করতে থাকে তামিম এবং তার সাথে প্রেম না করলে এডিট করা ছবিটি ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর বাড়িতে ফিরে রুপা বিষয়টি তার মাকে জানায়। তার মা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে রুপার বাবাকে জানালে রাতে বাড়ি ফিরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। রুকাইয়ার মা শান্তা বেগম বলেন, সন্ধ্যার দিকে মেয়ে প্রতিদিনের মতো নিজের ঘরে দরজা আটকে ছিলেন। এভাবেই সে পড়াশোনা করে বলে মায়ের কোনো সন্দেহ হয়নি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে বাবা মেয়েকে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে যান। সেখানে খাটের ওপর মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং পাশে ঘরে থাকা ঘুমের ওষুধ সহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের খালি খোসা পান।

তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, সেখানে তার কোনো চিকিৎসা না করে ডাক্তাররা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে রাতেই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও, তারা অভিযুক্ত তামিম কে আটক করতে পারেনি। শনিবার দুপুরে রুকাইয়া রূপার আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত তামিম খানের বিচারের দাবিতে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছে তার সহপাঠীরা। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার হালদারসহ কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রী বক্তব্য দেন। এই সময় তারা তামিমের কঠিন শাস্তি দাবি করেন।

এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। তামিম খান ঘটনার পর পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাকসুদুর রহমান।


আরো পড়ুন