• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কেরাণীগঞ্জে একটি এ্যাম্বুলেন্স মাদক প্রচার কালে ৩১ কেজি গাঁজাসহ আটক- ২ ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন র‍্যাব!  বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে: কাদের এক দিন নয়, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে দুই দিন ডা. জাফরুল্লাহর রিট আবেদন শুনতে অপারগতা হাইকোর্টের প্রথম আলোর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রুল জারি ভুল চিকিৎসায় পুরুষত্বহীন হতে হলো যুবককে ! আট দিন বিঘ্ন ঘটতে পারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সম্প্রচারে দিল্লির প্রেসক্লাব ব্যবহার করতে পারবেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যরা মালয়েশিয়াতে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হলো বাংলাদেশ ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের’ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত

একজন সাংবাদিক জীবনের পোস্টমর্টেম

ডেক্স রিপোর্ট / ৭৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

সাংবাদিকতা পেশায় চলতে গিয়ে কতইনা হোঁচট খেয়েছি। কিন্তু দমে যাইনি। কাঁটায় বিছানো পথ মাড়িয়ে আমাকে এ পর্যন্ত আসতে হয়েছে। বাঁধা বিপত্তি ছিল প্রতি পদে পদে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে দৃশ্যমান অদৃশ্য কতই না শত্রু তৈরী হয়েছে তার হিসেব আমি নিজেও জানিনা। কে শত্রু কে মিত্র বুঝা মুশকিল। সংবাদের কারনে প্রতিদিনই শত্রু তৈরী হচ্ছে। এ পেশায় যতদিন আছি ততদিন শত্রুর সংখ্যা বেড়েই যাবে। সত্য প্রকাশ কারো না কারোর বিপক্ষে যাবেই। তাই শত্রু হবে,শত্রু বাড়বে।তাইতো চ্যালেঞ্জিং এ পেশা।

আমি সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেই ১৯৯৯ সালে। সাংবাদিকতার শুরু থেকেই সত্য প্রকাশে অবিচল থাকার চেষ্টা করেছি। সত্য প্রকাশে আপোষহীন থেকেছি সাধ্যমত। আমার পেশায় সত্য প্রকাশে কোন মত পথের বাছ বিচার করিনি। আপনজনদেরও দেইনি ছাড়। অনেক কাছের লোক দুরে সরে গেছে রির্পোটিংকে কেন্দ্র করে। এই নিয়ে আমার বিন্দু মাত্র আফসোস নেই। সাংবাদিকের কোন বন্ধু থাকতে নেই। থাকেও না। এটাই বাস্তবতা।

সালটা সম্ভবত ২০০২। বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। আমার একজন প্রিয় মানুষ এমনকি আমার বাসার ৫০ গজের মধ্যে মরহুম মাহবুবুর রহমান আনসারী সাহেবের বাড়ি। তিনি ওই সময় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ছিলেন। ছড়ায় ছড়ায় তার শ্রুতি মধুর রাজনৈতিক বক্তব্য মানুষ অধীর আগ্রহে শুনতেন। খুবই মেধাবী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। একাধারে কবি ও লেখকও ছিলেন। সামনে পৌরসভা নির্বাচন। আগের বার বিএনপির মনোনয়নের চুড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেও পরে তিনি নির্বাচন করেননি। এবারও সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে পৌরবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়ে পৌর এলাকার দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়েছেন। ‘নির্বাচনী হাওয়া বইলে প্রার্থী হন ঘনিয়ে এলে সরে দাঁড়ান’ শিরোনামে স্থানীয় পত্রিকায় নিউজ করি। এই নিউজ পড়ে চটে যান তিনি। আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন পত্রিকার সম্পাদক,নির্বাহী সম্পাদক ও আমাকে আসামী করে। রাগ ক্ষোভ কমে গেলে তিনি মামলা তুলে নেন এবং তার সাথে আমার সম্পর্কের উন্নয়ন হয়। চমৎকার সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছে সমসাময়িক বিষয়ের উপর রাজনৈতিক কলাম লিখে আমাকে দিতেন আমার সম্পাদনায় স্থানীয় পত্রিকায় আমি ছাপাতাম। মাহবুবুর রহমান (মাসুম আনসারী) কাকা আজ আমাদের মাঝে নেই। আল্লাহ যেন তাকে বেহস্ত নসীব করে।

এর পরে আরো কয়েক দফা আমাকে দমানোর চেষ্টা হয়েছে নানাভাবে। দমানোর এমনই এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরছি আপনাদের সামনে।
জামালপুরে শহরের তমালতলায় একটি মার্কেটে ব্যাগ কিনতে এসে এমনই হামলার শিকার হন দুই জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট। ঘটনাটি ঘটে শহরের কথাকলি মার্কেটের অপরদিকে মিতালি মার্কেটে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষানিক দুইজনকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে আমিসহ অপরাপর সাংবাদিকরা ১০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পৌছি। আমি পৌছার আগেই আসামীদের পুলিশ ভ্যানে থানায় নিয়ে যান। তাই ছবি তুলতে পারিনি। সহকর্মীদের কাছ থেকে ছবি সংগ্রহ করে নিউজ কাভারেজ করেছি। পরদিন মামলার নিউজ এবং প্রধান আসামী মোতাহার গ্রেফতারের নিউজও কাভারেজ করি। ৩টি নিউজই আমার কর্মরত গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।

মাস তিনেক পরে হঠাৎ খবর পাই এক নাম্বার আসামী মোতাহার ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে বলেছে, আমি নির্দেশ দিয়েছি তারা ম্যাজিস্ট্রিটের ওপর হামলা করেছে। অর্থাৎ চার্জশিটে হুকুমে’র আসামী আমি।
আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। কারন, যারা হামলা করেছে আমি ওই সম্প্রদায়ের লোক না, মিতালী মার্কেটে আমার দোকান নেই, ওই মার্কেটে দোকান মালিক বা কর্মচারী কোন বন্ধুও নেই। কখনো সেখানে আড্ডাও দেইনি। কোন প্রকার যোগসুত্র নেই ওই ঘটনার সাথে। তাহলে কি কারনে, কেনইবা আমি নির্দেশ দিব। আমার স্বার্থটাই বা কি?

বিচারকের উপর হামলার মতো ভয়ানক মামলায় আমাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল জামালপুর প্রেসক্লাব ও জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। আমার নিউজ কাটিংসহ দুই ক্লাবের নেতৃবৃন্দ জেলা জজ ও পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে চার্জশিটে অহেতুক সাংবাদিকের নাম যাবে না। চার্জশিটে হুকুমে’র আসামী হিসেবে আমার নামটি পরিশেষে সংযুক্ত হয়নি।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তৎকালিন জেলা জজ ও পুলিশ সুপার মহোদয় এবং আমার পাশে দাঁড়ানো সহকর্মী ও ভালবাসার পাঠকদের।

ভয়ংকর ফাঁদ থেকে সে যাত্রায় রক্ষা পাই আমি। তা না হলে জেলের অভ্যন্তরে বন্দীজীবন কাটাতে হতো আমাকে। আমি এখনো সন্ধান করে পারিনি কি কারনে, কেন আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছিল! তাহলে কি সত্য লিখবো না?

লেখক: সৈয়দ শওকত জামান, সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ, জামালপুর জেলা শাখা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category