• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
রসিকের ভ্রাম্যমান ম্যাজিষ্ট্রেট অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়কসহ কয়েক জনকে অভিযুক্ত করে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ! স্বরুপকাঠিতে পৌর নির্বাচন  স্বতন্ত্র প্রার্থী শিশির কর্মকার জয়যুক্ত হবেন  পৌরবাসীর স্লোগান ২’শ কোটি টাকা বিক্রির টার্গেট লক্ষ্মীপুরে শীতের শাক সবজির বাম্পার ফলন ! নওগাঁর ভাইয়ের অবহেলার শিকার  ছেলেটির দায়ীত্ব  নিলেন  ইউপি চেয়ারম্যান ! সংবাদকর্মী আবদুল হাকিমের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ! পাবনা বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদকের পিতৃবিয়োগে শোক প্রকাশ ! দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ইন্দুরকানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত এবার করোনায় আক্রান্ত নাচো ফের্নান্দেস ! বাইডেন প্রশাসনে আরেক বাংলাদেশি আমেরিকান ! গরুর ভুঁড়ি পরিষ্কার করবেন যেভাবে !

ওসির নেতৃত্বে থানায় গৃহবধূকে রাতভর গ’ণধ’র্ষণ, ওসিই করছেন তদারকি!

Reporter Name / ১০৮ Time View
Update : সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক:- খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানা পুলিশের ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে গ’ণধর্ষ’ণের শিকার নারীর (২১) ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এদিকে, এ ঘটনায় পাকশী জিআরপির পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে থানার ভেতরে আটকে পাঁচ পুলিশের হাতে গণধর্ষণের বর্ণনা দেন ওই নারী। জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য থানায় আ’টকে তাকে ধ’র্ষণ করেছে বলে বিচারককে জানান ওই নারী।

তার বর্ণনা শুনে আদালতের বিচারক ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা হয়নি। ফলে সোমবার দুপুরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. অঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, রোববার রাতে সময় স্বল্পতার কারণে ধ’র্ষণের শিকার গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়নি। তাই সোমবার দুপুরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এজন্য বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে একটু সময় লাগবে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডা. শফিকুজ্জামান বলেন, ধ’র্ষণের শিকার ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সোমবার দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন পেতে কয়েকদিন সময় লাগবে।

ধ’র্ষণের শিকার গৃহবধূর বড় বোন বলেন, আমার বোনের শ্বশুরবাড়ি সিলেটে। আমার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় দেখতে খুলনায় আসে বোন। বোন নিজে অসুস্থ থাকায় বৃহস্পতিবার যশোরে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিল। শুক্রবার যশোর থেকে আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ প্রথমে তাকে মোবাইল চুরির অপরাধে থানায় ধরে নিয়ে যায়।

শুক্রবার বিকেলে জিআরপি পুলিশ প্রথমে বলেছে আমার বোন মোবাইল চুরি করে ধরা পড়েছে। পরে জানায় তাকে ছাড়াতে এক লাখ টাকা লাগবে। টাকা না দিলে কি করে আদায় করা যায় তা নাকি পুলিশ জানে। পরে টাকা না দিয়ে থানা থেকে চলে আসি আমরা।

তিনি আরও বলেন, আমরা থানা থেকে বের হয়ে আসার পর ওই দিন রাতে থানা হাজতে আমার বোনকে বি’বস্ত্র করে ওড়না দিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর প্রথমে ওসি ওসমান গনি পাঠান ও পরে আরও চার পুলিশ আমার বোনকে পালাক্রমে ধ’র্ষণ করে। এ সময় তাকে মা’রপি’টও করা হয়। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আমার বোনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

রোববার তাকে আবার আদালতে আনা হয়। তখন আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর জিআরপি থানায় গ’ণধর্ষ’ণের বর্ণনা দেয় আমার বোন। তখন আদালতের বিচারক তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

ধ’র্ষণের শিকার গৃহবধূর দুলাভাই বলেন, শুক্রবার (২ আগস্ট) আমার শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসে। ট্রেন থেকে নামার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে আমাদের ফোন দিয়ে এক লাখ টাকা নিয়ে থানায় যেতে বলে পুলিশ।

তখন ওসিকে বলেছি স্যার আমরা গরিব মানুষ, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না। তখন ওসি বলেন, ঠিক আছে, এখন ৭ বছর জেল খাটলে সব ঠিক হয়ে যাবে। ওই দিন রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় বসে থেকেও আমার শ্যালিকাকে ছাড়াতে পারিনি আমরা।

থানা থেকে চলে আসার পর ওই দিন গভীর রাতে জিআরপি থানা পুলিশের ওসি ওসমান গনি পাঠান প্রথমে আমার শ্যালিকাকে ধ’র্ষণ করে। এরপর আরও চারজন পুলিশ সদস্য পালাক্রমে তাকে ধ’র্ষণ করে। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রে’ফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেদিন তাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিন জেলারকে ধ’র্ষণের বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ওই গৃহবধূকে রোববার আদালতে তোলা হয়।

তখন আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর জিআরপি থানায় আটকে গ’ণধর্ষ’ণের বিষয়টি আদালতের বিচারকের সামনে তুলে ধরেন গৃ’হবধূ। এরপর আদালতের বিচারক তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ওসি ওসমান গনি মোটা অংকের টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় হু’মকি দিচ্ছে ধ’র্ষণের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ওসমান গনি বলেন, শুনেছি ওই গৃহবধূকে থানায় গ’ণধর্ষ’ণ করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ওই গৃ’হবধূ’কে এক নারী এসআই এবং নারী কনস্টেবল পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আ’টক করেছেন। থানায় ওই দিন রাতে তিনজন নারী পুলিশসহ আ’টজন পুলিশ পাহারায় ছিলেন। সেখানে গৃ’হবধূ’কে গণ’ধর্ষ’ণে’র সুযোগ নেই। মূলত মামলা থেকে রক্ষা পেতে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ।

জিআরপি থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওসি ওসমান গনি, কনস্টেবল মফিজ, কুদ্দুস, আলা উদ্দিন ও কামরুল ডিউটিতে ছিলেন।

সোমবার দুপুরে জিআরপি পুলিশের এসআই মফিজুল বলেন, ওই দিন আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে ওই গৃহবধূ নাকি আদালতে অভিযোগ করেছেন তাকে গ’ণধ’র্ষণ করা হয়েছে।

ওসি ওসমান গনি বর্তমানে কোথায় আছেন জানতে চাইলে এসআই মফিজুল বলেন, বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন ওসি। গ’ণধর্ষ’ণের শিকার নারীর তদারকি করছেন তিনি।

এদিকে, পাকশী রেলওয়ের পুলিশ সুপার সোমবার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে জিআরপির সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ. ম কামাল হোসাইন ও মো. বাহারুল ইসলাম। আগামী সাতদিনের মধ্যেই এ কমিটিকে প্রতিবেদন দেয়ার নিদের্শ দেয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category