• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
Headline
যেভাবে পাওয়া যাবে ‘লকডাউন মুভমেন্ট পাস লকডাউনে এলাকা না ছাড়তে ব্যাংক কর্মচারীদের কড়া নির্দেশ, বন্ধ ব্যাংক ! কাল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন, নতুন বিধিনিষেধে যা করা যাবে, যা যাবে না নিজেদের চালানো তাণ্ডবের প্রতিবাদে হেফাজতের নায়েবে আমিরের পদত্যাগ, নতুন নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান ! কক্সবাজারে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন’ ২ সহস্রাধিক গুলি উদ্ধার ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই নারীর মৃত্যু ! ‘যাদের কাছে জীবনের চেয়ে ধর্ম বড়, তাঁরা মেলায় গেছেন’ চট্টগ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যা, যুবলীগ নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা আজ জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সন্ধ্যায় রাজধানীর থানায় থানায় বাঙ্কার, লাইট মেশিনগান পাহারা

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কালেমা পড়ে বিবাহ করি : মাওলানা মামুনুল

অনলাইন ডেস্ক / ৪৪ Time View
Update : রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর একটি অভিজাত রিসোর্টে গতকাল শনিবার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সময় তাকে এক নারীসহ আটক করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।মামুনুলের অবরুদ্ধ থাকার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর কয়েকশ মানুষ রিসোর্টটির সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় তারা স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। পরে সেখান থেকে মামুনুলকে পাশের একটি মসজিদে নিয়ে যায় ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় হেফাজতকর্মীরা রিসোর্টে ভাঙচুরও করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নারীসহ মামুনুলের সেখানে অবস্থানের খবর পেয়ে স্থানীয় কিছু লোকজন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা তার কক্ষটি ঘেরাও করেন। পুলিশ তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেছেন, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁকে নিয়ে অবকাশ যাপন করতে মামুনুল ওই রিসোর্টে যান। সেখানে কিছু লোকজন তাকে নাজেহাল করেছে।

শুরু থেকেই ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করে আসছেন মামুনুল। ওই নারী নিজেও জানিয়েছেন, তিনি মামুনুল হকের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন।

এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি কেন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, রোববার এক ফেসবুক পোস্টে সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। নিজের এই বিয়েকে ‘একটি মানবিক বিয়ে’ বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশবরেণ্য এই আলেম।

রোববার (৪ এপ্রিল) সকালে মাওলানা মামুনুল হক তার ফেসবুক পেজে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি স্পষ্ট করে ‘একটি মানবিক বিয়ের গল্প’ শিরোনামে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু এখানে তুলে দেয়া হল—

‘একটি মানবিক বিয়ের গল্প’

‘হাফেজ শহিদুল ইসলাম আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের একজন। সাংগঠনিক কাজে আমার দু-চারজন সহযোগীর অন্যতম। বেশ পুরোনো আমাদের সম্পর্ক। সম্পর্কের গভীরতা পারিবারিক পরিধি পর্যন্ত। পরিবারসহ একে অপরের বাসায় যাতায়াত আমাদের দীর্ঘদিনের।

সেই সূত্রে তার পারিবারিক অভিভাবকত্ব করতাম আমি। পারিবারিকভাবে খুঁটিনাটি বিষয়ে পরামর্শের জন্য তারা আমার দ্বারস্থ হত। দুই সন্তানের ছোট সংসার নিয়ে চলছিল তাদের জীবন। একটা পর্যায়ে এসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে শুরু হয় মনোমালিন্য।

মনোমালিন্য থেকে বাদানুবাদ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু। আজ থেকে তিন বছর আগের কথা। তখন তাদের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি আমি। তাদের উভয়ের সাথে কথা বলি।

কিন্তু কোনভাবেই আর সেটি সম্ভব হয়নি। ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাদের। ছাড়াছাড়ির পর দ্বিতীয় সংসার শুরু করেন হাফেজ শহীদুল ইসলাম। সেই বিবাহ আমি পড়াই। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করছেন। সেই ঘরে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে আরেকটি সন্তান।

অপরদিকে হাফেজ শহীদ ভাইয়ের স্ত্রী হয়ে যায় অনেকটা অসহায়। এক রকমের কূলকিনারাহীন। রাগের মাথায় সংসার ভেঙে গভীর সংকটে পড়ে যান তিনি। ওই পরিস্থিতিতে তার জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাভাবিকভাবেই তিনি আমার শরণাপন্ন হন।উ দ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ নেন। আর সেই দুঃসময়ে সহযোগিতা করার মত আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না তার। ইসলামী দৃষ্টিকোণ এবং অভিভাবকত্বের জায়গা থেকে আমি তার অর্থনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করি। জীবনের করণীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনার জন্য নিয়মিতই আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে হয় তাকে।

এমতাবস্থায় একজন বেগানা নারীর সাথে এভাবে সম্পর্ক রাখাকে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে আমার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই, যত দিন তার অভিভাবকত্বের প্রয়োজন হবে আমার, তাকে বেগানা হিসেবে রেখে অভিভাবকত্ব করব না, বরং ইসলামী শরীয়তের আলোকে বৈধ একটা সম্পর্ক তৈরি করে নিব।

বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্টজনদের সাথে কথা বলি এবং এ বিষয়ে তাদেরকে জানিয়ে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিবাহের কালেমা পড়ে বিবাহ করে নিই। দুবছর যাবত এভাবেই মানবিক ও  ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আমি তার অভিভাবকত্ব করছি এবং একজন অসহায় নারীর দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি পুণ্যের কাজ করেছি বলে বিশ্বাস করি।আমি যা বললাম এটা আল্লাহর নামের হাজার বার শপথ করে বলতে পারব। বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য কুল্লামার শপথও করতে পারি।

বিষয়টি খোলাসা করার পরেও যুবলীগ আওয়ামী লীগের গুণ্ডারা আমার সাথে যে অমানবিক আচরণ করেছে এবং হামলা করেছে, গায়ে হাত তুলেছে, আমি এর বিচার চাই আল্লাহর কাছে প্রশাসনের কাছে এবং জনগণের কাছে। পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের এই হামলা ও আচরণ প্রমাণ করে বর্তমানে বাংলাদেশে  মান-সম্মান কিংবা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করা সম্ভব না।

এর আগে শনিবার বিকেলে সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠে। এঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সাথে থাকা ওই নারীটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন মামুনুল। সে বিষয়ে এই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের ব্যাখা দিলেন মাওলানা মামুনুল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category