চান্দিনায় মালিকানা গাছ ভেবে সরকারি গাছ কর্তণ; মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলে; ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী!

0
69

নিজস্ব প্রতিবেদক; কুমিল্লার চান্দিনা পৌর এলাকায় ছায়কোটে মালিকানাধীন জমির গাছ ভেবে মজসিজের উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারি একটি গাছ কাটার অভিযোগে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও তার পুত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমুলক মামলার অভিযোগ তুলেছে ছায়কোট এলাকাবাসী মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির লোকজন। ভুলবসত মালিকানা গাছ ভেবে মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য সকলের অনুমতি সাপেক্ষে গাছটি কাটা হয়েছে বলে জানায় মসজিদের ইমাম সহ মসজিদ কমিটির লোকজন ও এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী মসজিদের মুসল্লি ও কমিটির সাথে কথা বলে জানা যায়, ছায়কোট হাজী আমান গাজী জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে। ইতিপূর্বে মসজিদটির সভাপতি স্থানীয় মনু মিয়া কর্তৃক প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার কাজ করা হয়েছে। সম্প্রতি আর্থিক সল্পতা দেখা দেয়ায় মসজিদের সামনের সড়কের পাশে স্থানীয় জমির মালিকের সাথে কথা বলে মসজিদের নির্মাণ কাজের জন্য একটি গাছ দান হিসেবে নিতে বলেন জমির মালিক। পরতপক্ষে সড়কের পাশের জমিতে এক তৃতীয়াংশ জমিতে থাকলেও সামান্য অংশ সরকারি সড়কের আওতায় রয়েছে বলে দেখা যায়। গত ২০ মার্চ মসজিদ কমিটির লোকজন উপস্থিত থেকেই সারাদিন ধরে গাছটি কাটেন।

বিকেলে হঠাৎ পুলিশ এসে মসজিদের সভাপতি মনু মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সেনা কর্মকর্তা আঃ আউয়াল সহ এলাকার মুসল্লিসহ সকলে থানায় যায়। সরকারি গাছ নয় দাবী করেন তারা। আর এবিষয়ে মসজিদ কমিটির সকলে দায়ী সভাপতি একা নয়। এছাড়া তারা এও জানান যদি সরকারি গাছ হয়ে থাকে তবে তারা সরকারের যাবতীয় ক্ষতিপূরন দেবেন তারা। গাছটি মালিকানা ভেবে ভুলবসতো কাটা হয়েছে। পরবর্তীতে ইউএনওর সাথেও যোগাযোগ করেন এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটির লোকজন। নিজের প্রয়োজনে বা ব্যাক্তিগত স্বার্থে গাছটি কাটেন নি বলে অবহিত করেন কর্তৃপক্ষ কে। তবে এলাকাবাসীর কর্ণপাত করেন নি কেউ। ঐ দিন রাতেই মসজিদ কমিটির সভাপতি মনু মিয়া ও তার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা আইন কলেজের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন ও স্থানীয় এক ভ্যাণ চালক কে আসামী করে চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের করেন। চান্দিনা উপজেলা সামাজিক বনায়ন ও নার্সারির ভারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক কর্মকর্তা শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে ৩জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

উপস্থীত এলাকাবাসী জানায় মনু মিয়া গাছ কাটার সময় মসজিদ কমিটির লোকজনের সাথে ছিলেন তবে তার ছেলে ইকবাল হোসেন কুমিল্লা শহরে থেকে লেখাপড়া করেন। গাছ কাটার দিন ইকবাল এলাকায় ছিলেন না। তবুও উদ্দেশ্য মুলক ভাবেই তাকে এ মামলায় আসামী করা হয়েছে। মনু মিয়া মসজিদের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন দাবী করে তারা বলেন, প্রয়োজনে সরকারি গাছের দ্বিগুন মুল্য সরকারি কোষাগারে জমা দিতে প্রস্তুত আছেন তারা। গাছটি ভুলবসত কাটা হয়েছে মসজিদের উন্নয়নের জন্য। সংশ্লিষ্ট সরকারি বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং ইউএনও মহোদয় বিশেষ বিবেচনায় বিষয়টিকে অনুধাবন করে মামলাটি প্রত্যাহার এবং জেল থেকে মনু মিয়ার মুক্তির দাবীও জানান তারা।
এবিষয়ে মামলার বাদী চান্দিনা উপজেলা সামাজিক বনায়ন ও নার্সারির ভারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক কর্মকর্তা শাহজাহান বলেন, আমার সাথে কারো ব্যাক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই। সরিকারি গাছ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই তারা তা কেটেছেন।

আর গাছটি রাস্তার পাশের সরকারি জমিতেই ছিলো। উর্ধতন কর্মকর্তাদের আদেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মসজিদ কমিটি বা যে কোন ব্যাক্তি সরকারি গাছ কাটার এখতিয়ার নেই। ইকবাল সেখানে ছিলো বলে জেনেছি পরে সে প্রশাসনের উপস্থিতি দেখে পালিয়ে যায়। এবিষয়ে এলাকার লোকজন এসেছিলো তাদের সাথে কথা বলেছি মসজিদের বিষয়টি বলেছে আমিও উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি । আদালত এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা যা করার করবেন। আমি সরকারের কর্মচারী আমার দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here