ইয়াবা ব্যবসায়ী আইয়্যুবের আশ্রয়ে থেকে সম্পত্তির জন্য ভাইকে কুপিয়ে জখম

0
9

টেকনাফ সংবাদদাতা::
টেকনাফের হ্নীলা পশ্চিম পানখালী এলাকায় মাদক তথা ইয়াবা ব্যবসায়ী আইয়্যুবের আশ্রয় প্রশ্রয়ে অবস্থান নিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তির জন্য সহোদরকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। চিহ্নিত মাদক কারবারী আইয়্যুবের সিন্ডিকেটে মাদক ব্যবসায় টাকা যোগান দিতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উক্ত এলাকার মাওলানা আবুল মঞ্জুরের ছোটো ছেলে মো. আমিন (৩৮)। কিন্তু বড় ভাই রমিজ উদ্দিন (৪৬) তাকে একাজে বাঁধা প্রদান করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ নভেম্বর বুধবার গভীর রাতে আইয়্যুবের ইন্ধনে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে তারই ছোটো ভাই মো. আমিন (৩৮) প্রকাশ ভুলু। জানা যায়, মাদকের টাকা যোগান দিতে আমিন ও মাদক সিন্ডিকেট বিগত মাস তিনেক ধরে পৈত্রিক জমিজমা জোরপূর্বক ভাগিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এতে বাঁধা প্রদান করায় ছোটো ভাই হয়েও খোদ নিজের বড় ভাই রমিজ উদ্দিনের উপর স্বসস্ত্র হামলা ও পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মারাত্মক ভাবে আহত রমিজ উদ্দিনের (৪৬) হাতে একাধিক কিরিচের কোপ এবং পায়ে হকিস্টিক দিয়ে বেদড়ক পেটানোর চিহ্ন রয়েছে। এক্সরে রিপোর্টে রমিজ উদ্দিনের ডান পা ভেঙে যেতে দেখা গেছে।
অভিযোগে রমিজ উদ্দিন জানান- পশ্চিম পানখালী এলাকার স্থানীয় চিহ্নিত ইয়াবা কারবারী মৃত আবুল হাশেমের পুত্র মো. আইয়ুব প্রকাশ ইয়াবা লালাইয়্যার ইন্ধনে তার ছোটো ভাই মো. আমিন এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার শুরুতে অভিযুক্ত হামলাকারী আইয়্যুব কথা বলার অজুহাত দেখিয়ে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে ফরেস্ট রোড দিয়ে ইদগাহ মাঠ পর্যন্ত নিয়ে যায়। সেখানে তার আপন সহোদর আমিন ও একদল মুখোশ পরিহিত লোকজন এগিয়ে এসে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সেখানে শোর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আমিন ও আইয়্যুবকে দমন করে। এসময় বাকী হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
হামলার পর পারিবারিকভাবে টেকনাফ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার প্রাথমিক পরামর্শে আহত রমিজ উদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এবিষয়ে অভিযুক্ত হামলাকারী আমিনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো ভাইয়ের উপর হামলার প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এছাড়াও একজন মাদক ব্যবসায়ীর আশ্রয় পশ্রয়ে থেকে কীভাবে তিনি নিজেকে উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নন জানতে চাইলে কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি। এছাড়াও হামলায় জড়িত আইয়্যুব তিনটি মাদক সংশ্লিষ্ট মামলার পলাতক আসামী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- ইতিপূর্বে আমিন ও রমিজের মধ্যে তাদের পৈত্রিক জমিজমার ভাগ বণ্টন নিয়ে বিচার শালিস চলমান রয়েছে। কিন্তু সুবিধাভোগী ইন্ধনদাতা মাদক কারবারী আইয়্যুব ফায়দা লুটতে দুই ভাইয়ের মধ্যে সহিংস ঘটনার আয়োজন করেছে এমনটি অভিযোগ করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মো. আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান তার কাছে অনেক গুলো মামলার ফাইল রয়েছে। বিভিন্ন বিষযে বিচারাধীন মামলা রয়ছে। মুঠোফোনে বাদী-বিবাদী ও আক্রান্ত ব্যাক্তিকে তিনি চিনতে পারছেন না দাবী করে আগামী রোব বার উভয়কে পরিষদে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। সেখানে তিনি এবিষয়ে সুষ্টু সমাধান দিবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here