প্রবাসী নারীর শিশুকে ‘নগ্ন করে নির্যাতন’ সেই চাচা গ্রেপ্তার!

0
47

প্রবাসী মায়ের কাছ থেকে ‘টাকার জন্য’ শিশুকে নগ্ন করে নির্যাতনের অভিযোগে হবিগঞ্জে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া এলাকা থেকে স্বপন মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। স্বপন মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার চরগাঁও গ্রামের মৃত মনাই মিয়ার ছেলে।

বিকেলে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ একথা জানান।

পুলিশ সুপার (এসপি) বলেন, নবীগঞ্জ পৌর এলাকার চরগাঁও গ্রামের সুফি মিয়া ও সুমনা বেগমের দুই সন্তান। সুফি মিয়ার মৃত্যুর পর সন্তানদের শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের কাছে রেখে তিনি জীবিকার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান।

সুমনা বেগমের করা মামলার বরাত দিয়ে এসপি বলেন, টাকার জন্য স্বপন মিয়া প্রায় সময়ই তার সন্তানকে নির্যাতন করতে থাকেন। সন্তানকে নির্যাতন থেকে বাঁচাতে ধাপে ধাপে স্বপনের কাছে টাকাও পাঠান সুমনা। কিন্তু তাতে নির্যাতন থামেনি।

এসপি বলেন, সম্প্রতি সুমনার ৬ বছর বয়সী ছেলেকে নগ্ন করে নির্যাতন করে স্বপন মিয়া এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে মায়ের কাছে পাঠান। টাকা না দিলে আরও নির্যাতনের হুমকি দেন।

এসপি বলেন, এই ভিডিও দেখে গত ২ নভেম্বর দেশে ছুটে আসে মা সুমনা। মঙ্গলবার নির্যাতনের এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় নানান আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

“বুধবার রাতে এ ঘটনায় সুমনা আক্তার বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় স্বপনকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।”

পুলিশ সুপার আরও বলেন, পুরো ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কারো সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া মামলার বাদী সুমনা আক্তারের সঙ্গে তার দেবর স্বপন মিয়ার বিয়ে হয়েছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

“স্বপন মিয়ার দাবি সে সুমনাকে বিয়ে করেছে। তবে সুমনা আক্তার বিয়ের কথা অস্বীকার করছে।”

নির্যাতনে শিকার শিশুটির মা ও মামলা বাদী সুমনা আক্তার বলেন, “আমি কখনও আমার দেবর স্বপন মিয়াকে বিয়ে করেনি। সে আমার ছোট্ট শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করেছে আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহমেদ ও নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মামলায় বলা হয়, পিতৃহারা ছোট দুই শিশুকে দাদা-দাদি আর দেবরের কাছে রেখে জীবিকার তাগিদে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব গিয়েছিলেন সুমনা বেগম। যাওয়ার আগে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য স্বপনকে কিছু টাকাও দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here